বর্তমান সময়:0:00পুরো সময়কাল:10:01
0 শক্তি পয়েন্ট
ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট
১৮৫৭ সালের ৫ই আগস্ট, আটলান্টিক মহাসাগর জুড়ে ৪,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তার স্থাপন করা হয়েছে। এটি ব্রিটেন ও আমেরিকার মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন করে যা তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জোট আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এখন তথ্যেরগুলোকে মুহূর্তের মধ্যে বৈদ্যুতিক স্পন্দনের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া যায়। স্টক টিকার এবং অর্থ স্থানান্তর এগুলো হল ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের উদ্ভাবিত বাণিজ্যিক অ্যাপ্লিকেশন যা বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। "এই ঘোষণার অপেক্ষায় থাকুন জার্মানি পোল্যান্ডকে আক্রমণ করেনি, অনেকবার বোমাবর্ষণ করেছে। সাধারণ সংহতির আদেশ জারি হয়েছে ব্রিটেনে এবং ফ্রান্সে। অতএব, সেই অনুসারে এই দেশটি জার্মানির সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এটি যুদ্ধের প্রকৃত কারণ যে জন্য মানবজাতির স্বাধীনতা আজ হুমকির সম্মুখীন। (ইতালীয়ান ভাষা) (জাপানী কথোপকথন).... জাপানীরা আকাশ পথে পার্ল হারবার, হাওয়াই আক্রমন করেছে- প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এইমাত্র ঘোষণা করেছে। (জার্মানি) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি, ইতালি ও জাপানের খুব কম সংখ্যক মিত্র ছিল। তাদের বিজয়ের শুধুমাত্র সহজ পথ ছিল আকস্মিক আক্রমণের ব্যপকতা। তাই সাংকেতিক প্রযুক্তির লক্ষ্য ছিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংকেতিক যন্ত্রে ওয়ান-টাইম প্যাড ব্যবহার করা। মূলত, এই যন্ত্র একটি বর্ণ গ্রহণ করে, অনিয়মিত পরিবর্তন শেষে সাংকেতিক রূপে বর্ণটি প্রকাশ করে। যদিও, সব যন্ত্র একই নীতি অনুসরণ করে। এখানে কিছু প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে একেকটি "অবস্থা" শুরু হয়। কিছু ইনপুট গ্রহণের পর তা প্রক্রিয়াকরণ করা শুরু হয়, এবং শেষে ফলাফল প্রকাশ হয়। প্রক্রিয়াকরণের প্রাথমিক থেকে চূড়ান্ত অবস্থার মধ্যে সবকিছুই অনুমেয় এবং পুনরায় করা সম্ভব। সুতরাং মূল লক্ষ্য ছিল আলাদা যন্ত্র তৈরি যা গুচ্ছ গুচ্ছ শিফট তৈরি করত যা অনেক পর পর পুনরাবৃত্তি হত। (যান্ত্রিক টিক ) অতএব, এলিস এবং বব নিম্নরূপে আলাদা শিফট ধারা তৈরি করতে পারেঃ প্রথমে তাদের অভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার করা প্রয়োজন এবং একটি প্রাথমিক অবস্থানে একমত হবে, যা মূল সেটিং হিসাবে পরিচিত হবে। তারপর তারা তাদের যন্ত্র সারিবদ্ধ ভাবে একই অবস্থানে রাখে, এবং পরিশেষে আলাদা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে অভিন্ন ধারা পাওয়া যাবে। সে সময় সবচেয়ে আধুনিক যে প্রযুক্তি ছিল তা হল রটর এনক্রিপশন মেশিন। আমরা সবাই ওডোমিটারের যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাথে পরিচিত যেটি দীর্ঘ সময় ধরে এর পুনরাবৃত্তির চক্র সম্পন্ন করে। এখন মনে করি আমরা ওডোমিটারের চাকতিতে সংখ্যাগুলোকে এলোমেলো করে দিলাম। যখন এটি এগিয়ে যায়, একটি নতুন শিফট উৎপন্ন হতে পারে রটরে প্রতিটি সংখ্যা যোগ করে। এটি রটর সাংকেতিক যন্ত্রের মোটামুটি একটা ধারণা। উদাহরণস্বরূপ, "উত্তর-পশ্চিম আক্রমণ" নিম্নরূপে সাংকেতিক রূপ দেয়া হবে। লক্ষ্য করতে হবে, কিভাবে একটি নতুন শিফট বার্তার প্রতিটি অবস্থানে ব্যবহৃত হয়। তিনটি রটর নিয়ে, যার প্রত্যেকটি ২৬ নম্বর, পুনরাবৃত্তির পূর্বে ধারার দৈর্ঘ্য হল ২৬ বার এর সাথে ২৬ বার এবং ২৬ বার। এটি হল এমন একটি শিফটের তালিকার সমান যা ১৭,৫৭৬ সংখ্যক দীর্ঘ। বুঝতে হবে প্রতিটি রটরের অবস্থান এর ধারা অবস্থানের সমান। প্রাথমিক যন্ত্রের "অবস্থা" কী-সেটিং হিসাবে পরিচিত, এবং সম্ভাব্য সকল কী-সেটিংস কী-স্পেস নামে পরিচিত। এই কী-স্পেস বৃদ্ধি পায় যদি যন্ত্রের প্রাথমিক রূপরেখার পথ সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। উদাহরণস্বরূপ, যদি রটরকে পুনর্বিন্যাস করা হয় তখন ছয় উপায়ে বিন্যাস নির্বাচন করা যেতে পারে। এখানে এই বিন্দুতে কী-স্পেস কে কল্পনা করি। আমরা প্রথমে ছয়টি থেকে সম্ভাব্য রটর বিন্যাস বেছে নেই, তারপর আমরা রটরের ধারা থেকে একটি প্রাথমিক অবস্থান নির্বাচন করি। যা ১০০,০০০ কী-সেটিংসের মধ্যে একটি কী-স্পেস প্রদান করে। মনে রাখতে হবে, এই স্থানে প্রতিটি যন্ত্রের রূপরেখা একটি বিন্দু। যখন আমরা একটি কী নির্বাচন করি, আমরা মূলত একটি শুরুর বিন্দু নির্বাচন করি, যেটি পরে বাকি সব শিফট ধারা নির্ধারন করে। কী-সেটিংটি বাদ দিলে সম্পূর্ণ ধারা বাদ পরে যাবে। রটার মেশিনে নিরাপত্তার উপর নির্ভর করে উভয় কী-স্পেসের আকার এবং কী-সেটিংএর অনিয়মিয়তার উপর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, খুব গুরুত্বপূর্ন সাংকেতিকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে জার্মান সামরিক বাহিনী যা এনিগমা নামে পরিচিত। এটি একটি তাড়িৎ-যান্ত্রিক রটার যন্ত্র যা উদ্ভাবিত হয় জার্মান প্রকৌশলী দ্বারা, ১ম বিশ্বযুদ্ধের শেষে। প্রতিটি রটার চাকা্র উভয় দিকের সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল এবং অনেক তারের কুন্ডলীর সাথে যুক্ত ছিল। সুতরাং প্রতিটি রটার অবস্থানে, প্রত্যেকটি ইনপুট বর্ণ এবং প্রত্যেকটি আউটপুট বর্ণের মধ্যে একটি বৈদ্যুতিক পথ ছিল। রটর উন্নত করা হলে প্রতিটি বর্ণের জন্য সম্পূর্ণ নতুন পথ নির্ধারণ করা হল। যুদ্ধের সময় তারা ক্রমাগত চেষ্টা করেছিল এনিগমার কী-স্পেস বৃদ্ধি করে শক্তিশালী করার জন্য। উদাহরণস্বরূপ, তারা কিছু পরিবর্তন করে ছিল। একটি চতুর্থ রটার চাকার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ৬০টি যন্ত্রে সম্ভাব্য সংখ্যক রটর স্থাপন করে। এটি ব্যাপক কী-স্পেস বৃদ্ধি করে। যুদ্ধের শেষের দিকে, এনিগমা 150 মিলিয়নেরও বেশি উপায়ে সাজানো যেত। প্রদত্ত বার্তার জন্য কী-সেটিং অনুমান করা অনেকটা ২৬ ফোটার গুটি ফল অনুমান করার মত। এটা জার্মানীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে যে অ্যালাইসদের যদি এনিগমা থাকে এরপরও তারা সকল কী-সেটিং যাচাই করতে পারবে না। উভয় দলকে এনিগমার সাহায্যে যোগাযোগ করতে হলে তাদের প্রথমে কী-সেটিংস জানতে হবে। এটি তাদের যন্ত্রকে একই ক্রমে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করতে সাহায্য করে। এই প্রোটোকল যুদ্ধের সময় বার বার পরিবর্তিত হতে থাকে কিন্তু সাধারণত বিন্যাসকৃত সকল অপারেটরকে যুক্ত করে। প্রতিটি দিন, অপারেটর দৈনন্দিন সেটিংস বন্ধ রাখলে এটি তাদের যন্ত্রের প্রতিদিনকার রূপরেখা বলে দিত যেমন, কোন রটর ব্যবহার করতে হবে এবং রটরের ক্রম। রটরের শৃঙ্খলা অনুযায়ই, ব্যবহারের। পর এই কী-সেটিংস ধ্বংস করে দেয়া হত। যাইহোক, এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাকি ছিল। তাদের একটি অনিয়মিত প্রারম্ভিক স্থান নির্বাচন করতে হবে প্রতিটি রটরের যোগাযোগ স্থাপনের পূর্বে। খুব সহজ একটি ভুল ছিল কিছু অবসন্ন অপারেটরদের দ্বারা। আমরা প্রায় সময়ই এমন ভুল করে থাকি যে সাইকেল তালা দেয়ার সংখ্যা সমন্বয় করতে আমরা সিলিন্ডারকে কয়েকবার প্রাথমিক অবস্থায় থেকে ঘুরিয়ে নেই। অথবা একটি সাধারণ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি। এটি প্রাথমিক রটার অবস্থানের অপরিবর্তনশীল বিন্যাসকে ধ্বংস করে এবং পরে পর্যবেক্ষণ করে, এটা অ্যালাইসদের রটরের তার পুনরায় সম্পূর্নভাবে গঠন করতে অনুমতি দেয়। দ্বিতীয় প্রধান ত্রুটি ছিল এর নকশার ত্রুটি যা পদ্ধতিগত করা হয়নি। এনিগমা তৈরি করা হয়েছিল যেন ইনপুট করা বর্ণ নিজে নিজে সাংকেতিক আকারে পরিণত না হয়। সুতরাং সাংকেতিক বর্ণ দেয়া হলে, যেমন L , এখন এটার মূল বর্ণ L হওয়ার সম্ভাবনা দূর করা যাবে। যেটাকে তারা তাদের শক্তি হিসেবে ভেবেছিল আদতে সেটাই ছিল নকশার দুর্বলতা। (পানি পড়ছে) আর এটিই কোড ভাঙ্গার যন্ত্রের দিকে নিয়ে যায়, শুরুতে এর নকশা করেন পোলস পরে তা ব্রিটিশ-আমেরিকান প্রচেষ্টায় উন্নত হয়। অনেকগুলো এনিগমা রটর মিলে বম্ব গঠিত হয়েছিল, যা দ্রুত বিভিন্ন কী-সেটিংস যাচাই করতে পারত। বেশি ব্যবহৃত শব্দগুলো মূল বার্তা হিসেবে পরিচিত ছিল, আবহাওয়ার মত। মো হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ডাবা মধ্যে বার্তা, যা সম্ভাব্য সব মাধ্যমে স্ক্যান করতে পারে রটার অবস্থান বের করার জন্য কয়েক মিনিটের মধ্যেই। এ ভাবে মেশিনের পড়ার অনুমতি জার্মান ভাষায় নির্দেশ জারি করে। যা মারাত্মক যুদ্ধ কৌশল ছিল, মিত্রশক্তি যেভাবে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়। এক সময় প্যাড স্বয়ংক্রিয় এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ। রটার অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিতে পাশা ঘূর্ণিত ছিল, ক্রমানুসারে বিতরণ করা হয়। এই প্রতিরোধ রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং এ রটার এর। অনুমোদিত অক্ষর এনক্রিপ্ট করা নিজেদের জন্য, বোমা না ফেলে সুবিধা গ্রহণ করে। আর এই পুরো কী স্থান চেক করতে মিত্রশক্তি যা এমনকি অসম্ভব ছিল দ্রুততম কম্পিউটারের সাথে। স্পেস কমে পুনরাবৃত্তিতে অন্যথা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।