বর্তমান সময়:0:00পুরো সময়কাল:4:32
0 শক্তি পয়েন্ট
ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট
ব্রিটিশঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, যখন ইউরোপের অধিকাংশ ধ্বংসাবস্থায় ছিল, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ইউনাইটেড স্টেট এর মধ্যে চাপা উত্তেজনা গড়ে উঠেছিল। এটা পরিষ্কার ছিলো যে, পরবর্তী বিশ্ব পরাশক্তির আন্তর্মহাদেশীয় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ চালানো এবং প্রতিহত করার উভয় সক্ষমতা প্রয়োজন ছিল। উত্তর আমেরিকায়, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আক্রমণের কেন্দ্র ছিল উত্তর মেরু। তাই ১৯৫৮ সালে, ইউনাইটেড স্টেট এবং কানাডার মধ্যে একটি যুক্ত প্রচেষ্টা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা নোরাড বা নর্থ আমেরিকান এ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড নামে পরিচিত। প্রতিরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আধা-স্বয়ংক্রিয় ভূপরিবেশ। এটা ১০০ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট দূরত্বের স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের রাডার ছিল যা উত্তর আমেরিকার উপর বিস্তৃত ছিল। তারা কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রাডার স্টেশনের সাথে সংযুক্ত ছিল যা টেলিফোনের তার বা রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে তথ্য-উপাত্ত প্রবাহিত করতো। রাডারের সব তথ্য কলারাডোর শাইয়েন পর্বতের এক মাইল গভীরে স্থাপিত একটি প্রাথমিক সতর্কতা কেন্দ্রে পাঠানো হতো। এই মেশিন থেকে মেশিনে যোগাযোগের প্রয়োগ কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রস্তুতকৃত এবং প্রেরিত তথ্য ব্যবহার করে অপারেটরদের মুহূর্তের মাঝে সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুমতি দিত। অনলাইন হওয়ার এই ধারণা পরবর্তী বছরগুলোতে খুব দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, কারন তারা কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এর কার্যকারিতা বুঝতো। বক্তাঃ যে জিনিসটি কম্পিউটারের যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে অসাধারণ করে তুলেছিল তা হল, এটা কর্মীদের একই দলের সদস্য করে রাখে --যারা ভৌগলিকভাবে বিভক্ত ছিল -- শুধু একে অপরের সাথে সংস্পর্শেই নয়, যে তথ্যের ভিত্তিতে তারা কাজ করত, তার সাথেও এবং এটা স্পষ্টতই আমরা কিভাবে পরিকল্পনা করি, কোন কিছু সংগঠিত করি, এবং কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক ঘটনা কে কিভাবে প্রকাশ করি -- এসব ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য তৈরি করছে। যদি আমরা একটি প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত হয়ে যাই যার সব কিছু বৈদ্যুতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত, এবং তোমার একমাত্র পরিচিতি হল যন্ত্রপাতিতে বিদ্ধ কিছু ছোট প্লাস্টিক জিনিস, তাহলে আমি অনুমান করতে পারি যে তারা এই মুহূর্তে তোমার ব্যাংকের হিসাব স্থির করতে চায় এবং সব চেকের মাধ্যমে এটা করতে চাই এবং এটার একটি নেটওয়ার্কের প্রয়োজন। ব্রিটিশঃ টাকা স্থানান্তর হলো উল্লেখযোগ্য একটি প্রয়োগ যা নিরাপদে রাখতে এনক্রিপশন প্রয়োজন; এবং সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ ইন্টারনেট বৃদ্ধিতে, সেই সময়ে একটা নতুন সমস্যা দেখা দেয়। এনক্রিপশন কী হিসেবে, দুই দলের মাঝে একটি গোপন র‍্যান্ডম সংখ্যা শেয়ার করা প্রয়োজন। তাহলে দুইটি লোক যাদের কখনও দেখা হয়নি তারা কিভাবে গোপন শেয়ারকৃত চাবি ইভকে না জানিয়ে শেয়ার করতে সম্মত হয়, যে সবসময় শুনছে, এবং একটি কপি ও পাচ্ছে? ১৯৭৬ সালে, হুইটফিল্ড ড্যাইফি এবং মার্টিন হ্যালমেন এটা করার একটি সুন্দর কৌশল বের করেন। প্রথমে, কীভাবে রঙ ব্যবহার করে এই কৌশল করা হয় তা দেখি। ইভকে না জানিয়ে এ্যালিস এবং বব কীভাবে গোপন একটি রঙে সম্মত হতে পারে? দুটি বিষয়ের উপর এই কৌশলটি নির্ভর করেঃ এক, দুটি রঙকে মিশিয়ে একটি তৃতীয় রঙ করা সহজতর; এবং দুই, একটি মিশ্রিত রঙ দেয়া, যেন এটা বিপরীত করে ঠিক আসল রঙ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়। এটা তালার মূল বিষয়। একদিকে সহজ, কিন্তু বিপরীত দিকে করা কঠিন। এটা একমুখী ফাংশন হিসেবে পরিচিত। এখন, সমাধানটি নিম্নলিখিতভাবে কাজ করেঃ প্রথমে, তারা প্রকাশ্যে একটি প্রাথমিক রঙ ব্যবহারে সম্মত হয়, ধরি হলুদ। পরবর্তীতে, এ্যালিস এবং বব উভই নিজস্ব রঙ নির্বাচন করে, এবং প্রকাশ্য হলুদ রঙের সাথে তাদের রঙ মিশ্রিত করে যেন তাদের নিজস্ব রঙ গোপন করতে পারে। এখন, এ্যালিস তার নিজের রঙ রেখে দেয় এবং ববকে তার মিশ্রণ পাঠায়, এবং ববও তার নিজের রঙ রেখে দেয় এবং এ্যালিসকে তার মিশ্রণ পাঠায়। এখন, কৌশলের কেন্দ্রঃ এ্যালিস এবং বব তাদের নিজস্ব রঙের সাথে অপরের পাঠানো মিশ্রণটি যোগ করে এবং শেয়ারকৃত গোপন রঙ তৈরি করে। লক্ষ্য কর ইভ কীভাবে সঠিক রঙটি নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়, যেহেতু এটি করতে তার যেকোন একটি নিজস্ব রঙ প্রয়োজন। এবং এটাই কৌশল। এখন, এটা সংখ্যা দিয়ে করতে আমাদের সংখ্যাসূচক প্রক্রিয়া প্রয়োজন যার একদিকে সহজ এবং অন্যদিকে কঠিন।