বর্তমান সময়:0:00পুরো সময়কাল:9:23
0 শক্তি পয়েন্ট
ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট
(পিয়ানোর সুর) সাধারণভাবে, তথ্য মানে হল কিছু বার্তা যা কোন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় বা সংরক্ষিত থাকে। যখন আমরা কোন ছবি আঁকি, তখন আসলে আমরা একটা বার্তাকে ধারাবাহিক অসংখ্য নমুনার সম্ভাব্য রূপে প্রকাশ করি। মনের ভাব প্রকাশে আমাদের কোন বাধা নেই। যখন মানুষ লিখন পদ্ধতি উন্নয়ন শুরু করলো, তখন এই পৃথিবীকে সসীম সংখ্যার পারমাণবিক এককে ভাগ করে নিয়েছে যা নানা চিহ্নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। যেকোন ধরনের লেখার পদ্ধতিকেই এভাবে চিন্তা করা যায় বিভিন্ন চিহ্নকে একটি নির্দিষ্ট ধারায় সাজিয়ে বার্তা গঠন করা হয়। ৩০০০ খৃষ্টপূর্ব সময়ে ফিরে গিয়ে তখনকার দুটো প্রাচীন লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে জানি। প্রথমে মিশর, যেখানে আমরা হায়রোগ্লিফিক্স পেয়েছিলাম, যা সরকারি, অর্থনৈতিক, জাদুবিদ্যা এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একটি উন্নত যাজকীয় যোগাযোগ মাধ্যম। নির্ধারিত কিছু লেখক হায়রোগ্লিফিক্স চর্চা করত যাদের স্ক্রাইব/লিপিকার বলা হত যা সাধারণ মানুষে কাছে দুর্বোধ্য ছিল। এই চিহ্নগুলো দু্টো প্রধান ভাগে বিভক্ত। একটি হল শব্দ-রূপ, যেখানে চিহ্নগুলো একটি নির্দিষ্ট অর্থবহ ধারণা প্রকাশ করে। ব্যাক আপেল আর ... ধ্বনি-রূপ এই চিহ্নগুলো ধ্বনির অংশ প্রকাশ করে। বি জি টন কা বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১৫০০-এর মত চিহ্ন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হত। আর এই চিহ্নগুলোকে যদি শব্দ-রূপ বনাম ধ্বনি-রূপ অনুযায়ী দু'ভাগে ভাগ করা হয়, তাহলে ধ্বনির ক্ষুদ্র অংশ পাওয়া যাব। সেখানে ১৪০টির মত ধ্বনি-সংকেত ছিল যার মধ্যে মাত্র ৩৩টি স্বতন্ত্র ব্যঞ্জন-ধ্বনি ছিল যা চিহ্নের ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহৃত হত। এই চিহ্নগুলো সংরক্ষণ করে রাখবার জন্য পাথরের গায়ে খোদাই করা হত। আর এতে এগুলোর স্থায়িত্ব অনেকাংশে বেড়ে যেত ফলে বছরের পর বছর রয়ে যায়। এখানে তথ্যের সহজ প্রাপ্যতার চেয়ে স্থায়িত্বটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই সময়ে চিহ্ন সংরক্ষণের জন্য নতুন মাধ্যমের প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। বন্যার কারণে রেশমের অবশিষ্টাংশ নীলনদে পড়ত বলে তার তীরবর্তী অঞ্চলে ছিল অত্যন্ত উর্বর। এখানে যত ধরনের ফসল হত, তার মধ্যে প্যাপাইরাস ছিল অন্যতম। এগুলোকে ফালি করা হত, তারপর এই ফালিগুলোকে ভিজিয়ে রাখা হত, (ঘন্টার শব্দ) এরপর এগুলো বুনে নির্যাস সংগ্রহের জন্য চেপে রাখা হত এই নির্যাস আঠার মত কাজ করত। (ঘন্টার শব্দ) বেশ কিছুদিন এভাবে রাখার পর এই প্যাপাইরাস শুকিয়ে পাতলা কাগজের মত হয়ে যেত। (ঘন্টার শব্দ) পাথরে লিখে রাখার চেয়ে প্যাপাইরাসের মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর এই প্রক্রিয়াটি ছিল সহজ এবং সময়োপযোগী। এটি চিহ্নগুলোকে সংরক্ষণের জন্য আরো সহজলভ্য এবং বহনযোগ্যতার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল সেই সাথে নানা উদ্দেশ্যে এর লেখার ব্যবহার সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছিল। ধীরে ধীরে প্যাপাইরাসে লেখার প্রসারের সাথে সাথে দ্রুতলিখনের জন্য সংকেতগুলোও নানাভাবে পরিবর্তিত হতে শুরু করে। এভাবেই বাঁকা হাতের লেখার প্রচলন হয়, যাকে বলা হত হাইরাটিক। যেমন- এটি অস্ত্রোপচার সম্পর্কিত বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো দলিল। এটি এই হায়েরাটিক পদ্ধতিতে লিখিত যা ১৬০০ খ্রিষ্টপূর্বের। এই চিহ্নগুলো মূলত হায়রোগ্লিফিক থেকে এসেছে প্রাচীন শর্টহ্যান্ড পদ্ধতির দ্রুততার কথা মাথায় রেখে এই নতুন চিহ্নের চিত্রগুলো সরল করা হয়েছিল। সাধারণভাবে ব্যবহৃত চিহ্ন সংখ্যাও কমে মাত্র ৭০০ তে এসে ঠেকে। লেখার মাধ্যম ধীরে ধীরে বহনযোগ্য হওয়ার সাথে চিন্তাধারাও সাধারণ হতে থাকে। হাতে লেখার প্রচলম ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং এর পাশাপাশি মুক্ত চিন্তা চেতনার বিকাশ ঘটতে আরম্ভ করে। এর মাধ্যমে দ্রুত লেখার কথা চিন্তা করে ৬০০ খ্রিঃ পূর্বে নতুন এক ধরনের লেখার পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটে যার নাম ছিল ডেমোটিক যেমন- বিবাহসম্পর্কিত দলিল এমন এক ধরনের লেখা যেখানে এই ধরনের প্রাচীন ডেমোটিক লেখার নমুনা পাওয়া যায়। একটু খেয়াল করলে দেখা যায় যে, লেখার এই নতুন ধরনের পদ্ধতিতে মোট চিহ্ন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে আসে, আগের ব্যবহৃত সংকেতের মাত্র ১০% এই নতুন লিখন পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়। এর একটা বড় কারণ হল শব্দ-রূপ বা অর্থ-রূপ বদলে বি যে টন কা ধ্বনি চিহ্ন ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি...। আর লিখন পদ্ধতির এই সরলতার কারণে শিশুদের কম বয়স থেকে লেখা শেখানো শুরু করা যেত। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংস্কৃতিতেও এই ধরণ লক্ষ্য করা যায়। যদি ৩০০০ খ্রিষ্টপূর্বের মেসোপটেমিয়াতে ফিরে যাই তাহলে দেখব যে, সেখানে কিউনিফর্ম নামের লিখন পদ্ধতিটি অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত। মুদ্রা আবিষ্কারের পূর্বে এই পদ্ধতিতে ঋণসুবিধা ভোগকারীদের গতিবিধি এবং উদ্বৃত্ত সামগ্রীর সন্ধান পাওয়া যেত। যেমন, এখানে বলা হয়েছে একজন ব্যক্তির কি পরিমাণ পশুর চামড়া আছে আর এই ধরনের লিখন সবার সুবিধা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়ে থাকে। এখানে রুটি ও পানীয়র একটি রেসিপি আছে, আর এই ট্যাবলেটি হল একটি আইনবিষয়ক দলিল। মূলত, সুমেরীয়রাই লেখার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করত আর এই লিখন পদ্ধতিতে চিহ্নের সংখ্যা ছিল ২০০০ এর মত এবং এই চিহ্নগুলো নানা শব্দ ও ধ্বনি অনুসারে আবার বিভক্ত ছিল। ধীরে ধীরে মৌখিক ভাষা হিসেবে আক্কাদিয়ান ভাষাটি সুমেরীয় ভাষার স্থান দখল করে নেয় এবং এটি ২৩০০ খ্রিষ্টপূর্বের সবচেয়ে প্রাচীন অভিধান। এই অভিধানে ছিল সুমেরীয় এবং আক্কাদিয়ান ভাষার শব্দসমূহ এবং এই অভিধান অবিষ্কৃত হয় আধুনিক সিরিয়াতে। যখন আক্কাডিয়ানরা ব্যবহার করা শুরু করল, তখন তারা চিহ্ন সংখ্যা ৬০০ তে কমিয়ে আনল এবং তখন তারা পুনরায় সেই ধ্বনি-রূপ ব্যবহার করা শুরু করল। আবার হায়রোগ্লিফিক এবং কিউনিফর্ম ভাষায় দেখা যায় যে তারা আরো পরিশীলিত রূপে অসংখ্য ধবনি-রূপ তাদের ভাষায় ব্যবহার করেছে এবং যত লিখন পদ্ধতির ব্যবহার আনুষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তাকে ছাড়িয়েছে ততই মানুষের জন্য নতুন নতুন লিখন পদ্ধতি আবিষ্কারের পথ সুগম হয়েছে। লেখার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন আবিষ্কার হয় ১৭০০ খ্রিষ্টপূর্বে। সাইনাই শিলালিপি পাওয়া যায় সাইনাই পেনিনসুলায় এবং একটি থেকে অপরটি প্রায় ২০ ফুট দূরত্বে ছিল। ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ কারন প্রত্যেক ছবি একটি ব্যঞ্জন ধবনিকে বোঝাতো এবং এখানে স্বরধ্বনির কোন ব্যবহার নেই। সঠিকভাবে উচ্চারিত হলে এই বর্ণগুলো প্রাচীন সেমিটিকে শব্দ তৈরি করত। যদিও এই বার্তাটির সম্পূর্ণ অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। তবুও বলা যায় যে, এই বার্তাটির অর্থ হচ্ছে- নাম, বিন্যাস এবং প্রার্থনা। যে দুটো শব্দের অর্থ জানা গেছে সেগুলো হল "প্রধান" এবং "ঈশ্বর"। এটা দেখলে বোঝা যায় যে সময়ের সাথে লিখন পদ্ধতি কীভাবে ধ্বনি থেকে অর্থবোধকতায় পরিবর্তিত হয়েছে। এ এ্যাক ব্যাক বা পল অ্যাপেল খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ আমাদের এমন এক সময়ে নিয়ে যায় যখন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ফিনিশীয় বর্ণমালার মাত্র প্রসার ঘটছে। ফিনিশীয়দের মধ্যে সমুদ্রপথে আমদানি রপ্তানীর প্রচলনটা ছিল। ফিনিসিয়ান লিখন পদ্ধতির ব্যাপারটা এরকম ছিল যে, একটা চিহ্ন দিয়ে একটা ব্যঞ্জনধ্বনিকে প্রকাশ করা হত, এবং তা ব্যবহৃত হত উত্তরাঞ্চলীয় সেমিটিক ভাষা লেখার সময়, যেখানে মোট চিহ্ন সংখ্যা ছিল মাত্র ২২ টি। এই যে চিহ্নগুলোর কথা বলছি তার অধিকাংশই ছিল হায়রোগ্লিফিকের ছবি থেকে ধার নেওয়া, তাই বর্ণের নাম শুরু হত ঐ বর্ণের ধ্বনির মাধ্যমে। যেমন, মেম। যার অর্থ পানি, তার পরিবর্তন হল বর্ণ (M) এম হিসেবে। এলফ, যার অর্থ হল ষাঁড়, তা হল আজকের বর্ণ A (এ) , কিন্তু বর্ণমালার অদ্ভূত ব্যাপারটি এর আবিষ্কর্তারাও জানতেন না যে, বর্ণমালা সঠিকভাবে কাজ করবে কি না । ডি আ, এ, ই, উ, অ সামান্য পরিবর্তন করে আমরা এই বর্ণগুলোকে বিভিন্ন দেশের মৌখিক ভাষার সাথে মিলানো যায়, যেমন ইউরোপ, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যে এভাবে তা ছড়িয়ে পরে। মা ডা এটি ছিল গ্রিক এবং পরবর্তীতে রোমান বর্ণমালার উৎস। বর্ণমালার আবিষ্কার নিঃসন্দেহে বার্তা প্রচার এবং সংরক্ষণের একটি শক্তিশালী পন্থা। খেয়াল করলে বোঝা যাবে যে, আসলে কোন চিহ্ন ব্যবহার করছি কোন চিহ্ন আর তা কীভাবে আসল অথবা তা কোন ভাষার তারচেয়ে মূল বিষয় হল একগুচ্ছ পূর্বনির্বাচিত চিহ্নের মাধ্যমে কোন তথ্য কারো কাছে পৌঁছানো। সময়ের সাথে সাথে মানুষ সবসময়েই তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এমন পদ্ধতি আবিষ্কার করতে চেয়েছে যা দ্রুত বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। এবং যখনই আমরা মানুষ বা প্রানী অপেক্ষা দ্রুততর কোন মাধ্যম ব্যবহার করতে চেয়েছি যা , তখনই সেই মাধ্যমের কৌশলে সমস্যা হয়েছে। ... হ্যালো? ... হ্যালো?