বর্তমান সময়:0:00পুরো সময়কাল:3:26
0 শক্তি পয়েন্ট
ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট
ধর এলিস এর মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে এবং সে সেটা কারো সাথে শেয়ার করতে চায়। এই আইডিয়া শেয়ার করার তো অনেক রকম উপায় আছে। সে একটি ছবি আঁকতে পারতো, খোদাই করতে পারতো, একটা গান লিখতে পারতো, একটা টেলিগ্রাফ পাঠাতে পারত, বা একটা ইমেইল ও হতে পারত। কিন্তু কিভাবে এগুলো সবগুলোই আলাদা? এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা হল কেন এগুলো একই হবে? আজকের আমাদের গল্প মূলত এই বিভিন্ন ধরনের মূল উপাদানগুলো নিয়ে যা যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজন। এটার শুরুটা একটা বিশেষ দক্ষতা দিয়ে তোমার কাছে হয়ত ততটা বিশেষ নয়-- ভাষা ভাষার মাধ্যমে আমরা আমাদের কোন একটা চিন্তা বা কোন মনস্তাত্ত্বিক বস্তু নিয়ে-- তাকে ছোট ছোট অনেকগুলো ধারনায় ভাগ করতে পারি। এই ধারনাগুলোকে প্রকাশ করা হয় কিছু সংকেত - বা 'চিহ্ন' ব্যবহার করে। মানুষ মনের ভাব প্রকাশের জন্য বিভিন্ন ধরনের শব্দ এবং শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করে থাকে- যেমনি করে পাখিরা কিচিরমিচির করে- মৌমাছিরা গুঞ্জন করে- এছাড়া মানুষের তৈরি মেশিনগুলো, একগুচ্ছ তরঙ্গায়িত বৈদ্যুতিক কম্পন আদান-প্রদান করে থাকে। এমনকি আমাদের শরীরও কিছু নির্দেশের ভিত্তিতে তৈরি আর এই নির্দেশগুলো সংরক্ষিত থাকে আমাদের ডিএনএতে। এই সবকিছুই হল -'তথ্য' কিন্তু বিভিন্ন রূপে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে তথ্য হল এমন একটা বিষয় যা পরস্পরকে প্রভাবিত করে। যোগাযোগ সফলভাবে করানোই হল এর আসল উদ্দেশ্য। তথ্য - যে রূপেই থাকুক না কেন- একটা মৌলিক একক দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব- যেভাবে আমরা আদর্শ পরিমাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন বস্তুর ভর- পরিমাপ করে থাকি- যেমন কিলোগ্রাম বা পাউন্ড। এই এককগুলো দিয়ে আমরা খুব সহজেই পরিমাপ করতে পারি পাথর, পানি, বা গম এসবের ভর- একটি স্কেল ব্যবহার করে। তথ্যকেও এরকমভাবে পরিমাপ করা যায় 'এনট্রপি' নামক একটি পরিমাপক ব্যবহার করে। এটা হল তথ্য পরিমাপের এক ধরনের স্কেল। এটা খুবই সহজে বোঝা যায় যে, কোন একটা বইয়ের একটি পাতায় পুরো বইয়ের চেয়ে কম তথ্য থাকবে। আমরা কতটুকু তথ্য ব্যবহার করছি তা প্রকাশ করার জন্য 'বিট' ব্যবহার করা হয়- একটি অন্যরকম পরিমাপক। তার মানে হল এলিস যতভাবেই একটি বার্তা দিয়ে যোগাযোগ করতে চায় যেমন চিত্রলিপি, গান বা কম্পিউটার কোড প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সমান পরিমাণ বিট লাগবে, যদিও বিভিন্ন মাত্রায়। এবং বিট খুবই সাধারণ একটি ধারনা- একটি প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না। এটা অনেকটা পয়সার বৈশিষ্ট্যের মত। তাহলে তথ্যগুলোকে আসলে কিভাবে পরিমাপ করা হয়? তত্থের কি কোন গতিসীমা আছে? কোন সর্বোচ্চ ঘনত্ব? তথ্যতত্ত্ব এই সব অভাবনীয় প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে সক্ষম। এটা একটা ধারণা যা ৩ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে তৈরি হচ্ছে কিন্তু এটা বুঝতে হলে আগে আমাদের, অনেক পিছনে ফিরে যেতে হবে- এবং বিচরন করতে হবে, সম্ভবত, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আবিস্কার- বর্ণমালা। আর এটা করতে হলে, আমাদের আদিম যুগে ফিরে যেতে হবে।