বর্তমান সময়:0:00পুরো সময়কাল:10:16
0 শক্তি পয়েন্ট
ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট
## আগামী ও গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় অনূদিত ## আমি সাধারণ একটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই। এই সমগ্র ১০০ কোটি ছায়াপথ যার প্রত্যেকটির ৪০,০০০ কোটি নক্ষত্রপুঞ্জে কি আমরা একমাত্র বুদ্ধিদীপ্ত প্রাণি? বিষয়টা অকল্পনীয়। মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তার আধুনিক খোঁজ বা SETI, ১৯৫৯ যাত্রা শুরু করে যখন দু'জন কর্নেল পদার্থবিদ জুসেপি ককিয়নি এবং ফিলিপ মরিসন "ন্যাচার"-এ বেতার তরঙ্গ এবং ক্ষুদ্রতরঙ্গের মাধ্যমে নক্ষত্রের মধ্যে যোগাযোগ বিষয়ে একটি আর্টিকেল প্রকাশ করে। গবেষকরা ধারণা করে যেকোন বুদ্ধিমান সভ্যতা এই বেতার তরঙ্গ প্রেরণ করার ক্ষমতাকে আবিষ্কার করবে। এই ধারণাটি ছিল ভিত্তি, আংশিকভাবে, মানুষের ৮০ বছর লেগেছিল কিভাবে এটি করা যা তা নির্ণয় করতে যেখানে আলেসেন্দ্রো ভল্টার ব্যাটারি এবং বৈদ্যুতিক প্রবাহ আবিষ্কার ব্যবহৃত হয়। বিষয়টি খুব সহজ। তারের মধ্যদিয়ে স্বল্প দৈর্ঘ্যের বৈদ্যুতিক প্রবাহ প্রেরণের মাধ্যমে বেতার তরঙ্গ তৈরি করা যায়। তখন এই তরঙ্গ আমাদের বায়ুমণ্ডলের বাইরে দিয়ে এবং মহাশূন্য দিয়ে স্বল্প ব্যতিচারের মাধ্যমে যেতে পারে। একবার এই বেতার বা বিদ্যৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ পাঠানো হয়ে গেলে এগুলো এন্ট্যানা গ্রহণ করে এবং এগুলো আবার বৈদ্যুতিক কম্পনে রূপান্তরিত হয়। ১৯৬০ সালে, ফ্র্যাঙ্ক ড্রেক প্রথম সৌরজগতে বেতার তরঙ্গের খোঁজ করেন। বেতারযন্ত্রের ডায়াল ঘোরানোর মত ড্রেক আকাশ পর্যবেক্ষণ করছিল কোনরূপ দুর্বল সংকেতের আশায় যা অন্যকোন জগৎ থেকে আসতে পারে। যদিও এই প্রথম প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য কিছু পাওয়া যায়নি। তখন থেকে গবেষকরা নক্ষত্রের মধ্যে খোঁজা শুরু করল। তাই, এখানে সম্ভাবনা আছে, গত কয়েক দশকে আমরা শুধু নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে সংকেত পাব, কোন চমকপ্রদ সভ্যতা থেকে এবং পৃথিবীর সবকিছুর পরিবর্তন হয়ে যাবে। এটা হতেই পারে। SETI-এর খোঁজের মজার বিষয় হল যদিও আমরা বলি আমরা মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তার খোঁজে আছি কিন্তু বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন সংকেত কি তা আমরা সংজ্ঞায়িত করতে পারব না। প্রথমে বলা যায় আমরা এমন একটি সংকেত খুঁজছি যা আমাদের পরিচিত কোন পদ্ধতি দ্বারা উৎপন্ন নয়। তাহলে, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জাগে। আমরা কিভাবে জানব যে এই সংকেত কোন বুদ্ধিদীপ্ত উৎস থেকে আগত? SETI-এর ১৯৬১ সালের প্রথম বৈঠকে জন লিলি ডলফিনের ভাষা জানার প্রস্তাবনা করেন। যা তাদের বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন সংকেত বুঝতে সাহায্য করবে। এই গবেষণার প্রাথমিক কাজ লরেন্স আর ডয়েল এবং ব্রেন্ডা ম্যাককোয়ান মিলে করেন। ডয়েল এবং ম্যাককোয়ানের কাজ যে ধারণার উপর ভিত্তি করে আসে তা হল যদি মানুষ এবং অন্য কিছুর মধ্যে যোগাযোগের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য থাকলে মহাজাগতিক যোগাযোগে সেই বৈশিষ্ট্য ব্যবহার হবে। তারা পূর্ণবয়স্ক মানুষ ও ডলফিন এবং মানব শিশু ও শিশু ডলফিনের কন্ঠস্বরের ধারা বিশ্লেষণ করেন। ডলফিনের ক্ষেত্রে, এটা ছিল এক গুচ্ছ শিষ ধ্বনি এবং কিছু শব্দ। মানব শিশু ভাষা শিখে ধ্বনি অনুকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে, ধীরে ধীরে অনেক বড় বড় ধ্বনি সংকেত যুক্ত করে। ( শিশুর আধো বুলি) যাইহোক, শিশুর এই আধো বুলি ধাপে যে ধ্বনি তৈরি করে তা কম বেশি অনিয়মিত এবং কাঠামো ছাড়া। এটি দেখতে, ডোয়েল এবং ম্যাককোয়ান এই কম্পাঙ্কের বিপরীতে ভিন্ন ধ্বনি সংকেত, প্রদান করে তারপর তারা লেখচিত্রে আগের কম্পাঙ্কের সাথে সবচেয়ে বেশি মিলে এমন সংকেত বামে এবং কম মিলে এমন সংকেত ডানে সাজায়। মানব শিশুর ক্ষেত্রে, এই ধ্বনি সংকেতের ঢাল পরিষ্কার, সমান এবং এলোমেলো। যেহেতু শিশুরা তাদের পিতামাতার কাছ থেকে ভাষা শিখে, তারা তাদের উপস্থাপিত ধ্বনি সংকেত মডেলে যুক্ত করে যা তারা প্রকাশ করে। ফলস্বরূপ, আমাদের কথাবলার একটি গাঠনিক ধরন তৈরি হয়েছে। অতএব, লেখচিত্রের ঢাল ৪৫ ডিগ্রী কোণে নেমে এসেছে অথবা লগ-লগ চার্টে ঢাল হল -১। এটি জিপফের সূত্র নামে পরিচিত। মজার ব্যপার হল এটি সেই একই ঢাল যা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের ভাষার ক্ষেত্রে পাওয়া যায় এবং মনে হয় সবাই একই ধরন ব্যবহার করছে। বিস্ময়করভাবে, এই ধরনটি দেখা যায় যখন ডোয়েল এবংম্যাককোয়ান মানুষ ব্যতীত অন্যদের যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে। তারা দেখল শিশু ডলফিনের শিষ ধ্বনি মানব শিশুর আধোবুলির ধরনের মত একই ভাবে বিন্যস্ত। প্রথমে, ডলফিনের শিষধ্বনি কমবেশি অবিন্যস্ত। বয়স বাড়ার সাথে সাথে লেখচিত্রের ঢাল প্রায় -১ এ গিয়ে দাঁড়ায় যা মানুষের প্রক্রিয়ার মতই। (ডলফিনের কান্নার ধ্বনি) কিন্তু এই ধরনের বিশ্লেষণ একটি নির্দিষ্ট সংকেত বা শব্দের ক্ষেত্রে দেখা যায় মানুষ ও ডলফিনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাষাতাত্তিক গঠন সম্পর্কে কোন গভীর তথ্য দেয় না। এই গঠনটি একটি উদাহরণের সাহায্যে বুঝানো যাক। যদি আমি বই থেকে এলোমেলোভাবে একটি শব্দ নেই এবং তোমাকে ধারণা করতে বলি তাহলে তুমি শুধু আন্দাজে বলবে। যদি আমি বই থেকে এলোমেলোভাবে একটি শব্দ নিয়ে তার পরের শব্দ তোমাকে ধারণা করতে বলি তখনও তুমি ধারণা করবে। যদিও তোমার এটি ধারণা করতে সহজ হবে। আর যদি বই থেকে দুটি শব্দ দেই তৃতীয় শব্দটি ধারণা করতে বলি তাহলে সেটি ধারণা করা আরো সহজ হবে। যদি পরপর তিনটি শব্দ দেয়া হয় এভাবে চলতে থাকলে ধারনা করার বিষয়টি আরো সহজ হবে। বিষয়টি এমন ভাষার গঠন অনুসারে যেকোন শব্দ নির্বাচনের স্বাধীনতা কমতে থাকে আরো দীর্ঘ শব্দযুক্ত বাক্যের ক্ষেত্রে। একারণেই আমরা একে অন্যের কথা শেষ করার আগেই বুঝতে পারি। এখন সংখ্যায় প্রকাশ করতে ডোয়েল এবং ম্যাককোয়ান ক্লড শ্যাননের এনট্রপি পরিমাপক নিয়ে এল যা বিস্ময়ের পরিমাপক হিসেবেও পরিচিত। এনট্রপিকে হ্যাঁ বা না বোধক প্রশ্নের সংখ্যা হিসেবে ভাবা যায় যা পরবর্তী শব্দকে ধারণা করতে দরকার। যেহেতু অনুমান বৃদ্ধি পায়, তাই তথ্যের এনট্রপি কমে যায়। ডোয়েল এবং ম্যাককোয়ান ভিন্ন ভিন্ন গভীরতায় বা ক্রমে এই এনট্রপি পরিমাপ করেছে তাই একটি শব্দ প্রথম ক্রম দুটি শব্দের দল হল দ্বিতীয় ক্রম তিনটি শব্দের দল হল তৃতীয় ক্রম আর এভাবে চলতেই থাকে। তারপর তারা গভীরতার বিপরীতে তথ্যের এনট্রপির মান স্থাপন করে। ধারণা অনুযায়ী পূর্ণবয়স্কদের জন্য, তারা পেল গভীরতা কমার সাথে সাথে তথ্যের এনট্রপি কমে। এটি আমাদের যোগাযোগ পদ্ধতির গাঠনিক নিয়মের ফলাফল। মজার ব্যপার হল ডোয়েল এবং ম্যাককোয়ান একই কাজ করেছে ডলফিনের ভাষা নিয়ে এবং একই ধরণ পেয়েছে। ডলফিনের যোগাযোগ পদ্ধতির মাধ্যমে দেখা যায় দীর্ঘ ধ্বনি সংকেতের ধারায় তথ্যের এনট্রপি কমতে থাকে। এর মানে হল ডলফিনের যোগাযোগ পদ্ধতিতে একটি নিয়মতান্ত্রিক গঠন আছে যা সুস্পষ্ট এবং তর্কের সাপেক্ষে, এটি প্রত্যেক ডলফিনকে অন্যের কথা শেষও করতে দেয়। (ডলফিনের ধ্বনি) দৈবক্রমিক সংকেতের ধারার সাথে মিলিয়ে, যার তথ্য এনট্রপির লেখচিত্রে একটি সরলরেখা পাওয়া যায়, যেহেতু সংকেতের মধ্যে কোন শর্ত সাপেক্ষতা নেই। কারন এই ধরনটি মানুষ এবং মানুষ নয় উভয়ের যোগাযোগ পদ্ধতিতেই দেখা যায়। ডোয়েল এবং ম্যাককোয়ান বলেছেন এনট্রপির হ্রাস তথ্য আদান প্রদানের জন্য দরকার যাকে আমরা জ্ঞান বলে থাকি। যেহেতু ডোয়েল মতে যদি আমরা কম ব্যান্ডের সংকেত পাই, জিপফের স্থানে -১ এবং উচ্চতর শ্যানন এনট্রপি পেলেই আমরা এটি পেয়ে যাই। এ সবগুলোই একটি সাধারণ ক্ষেত্রে থাকে যা ভিনগ্রহের কেউও তাদের বাক্য শেষ করতে পারবে। কিভাবে আমাদের সাথে যোগাযোগে তোমাকে সাহায্য করতে পারি? যেভাবে আমি কথা বলতে পারছি। আলোকসংশ্লেষন সংযোগে আমি ডঃ ওয়াইম্যানের নির্দিষ্ট কিছু কার্যকরণ প্রক্রিয়া সংযুক্ত করি। ডঃ ওয়াইম্যানের মৃত্যু কি দরকার ছিল? তার এই আত্মত্যাগের মাধ্যমেই আমি যোগাযোগ করতে পারছি। অন্য মানুষ এবং অন্য প্রজাতির ভাষা সংস্কৃতি না বুঝেই ক্লড শ্যাননের এনট্রপি পরিমাপ একক অর্থ নির্বিশেষে এগুলোর গাঠনিক নিয়ম চিহ্নিত করতে আমাদের সাহায্য করে। ক্লড শ্যাননের মডেল তৈরিই হয় টেলিগ্রাফ তারের বাইরে সময় বাঁচাতে। এটি আমাদের তথ্যের বৈশ্বিক একক প্রকাশ করে ছোট একটি পার্থক্য এখন আমাদের তথ্যনীতির মেরুদন্ড হিসেবে কাজ করেছে। বর্ধিত ডিজিটাল এবং নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি যা আমাদের আধুনিক বিশ্বকে ক্লড শ্যানন প্রদত্ত ধারণার শক্তি এবং অস্তিত্বের দিকে নিয়ে যায়। এখানে কিছুক্ষণ থাকা এবং তথ্য তত্ত্ব আমাদের পৃথিবীতে বা এর বাইরে প্রযুক্তিগত এবং সমাজের নতুন কিছুর প্রবর্তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমার মনে হয় সম্ভাব্য বিতর্ক থাকলেও আমরা খুঁজেই যাব। বরং আরো বেশি এগোবো। যদি বিতর্ক থাকে যে পৃথিবীর বাইরে কেউ নেই মনে রাখতে হবে আমাদের ভুল হতে পারে, আমাদের খুঁজে যেতেই হবে কারন প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি এই মহাবিশ্বে আমাদের চিহ্নস্বরূপ। এটি বলে, আমরা কে। তাহলে আমি বরং বলব যাই হোক, অন্য একটি সভ্যতার অনুসন্ধান যথেষ্ট যৌক্তিক। ## আগামী ও গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় অনূদিত ##