If you're seeing this message, it means we're having trouble loading external resources on our website.

তোমার যদি কোন ওয়েব ফিল্টার দেওয়া থাকে, তাহলে দয়া করে নিশ্চিত কর যে *.kastatic.org এবং *.kasandbox.org ডোমেইনগুলো উন্মুক্ত।

মূল বিষয়বস্তু
বর্তমান সময়:0:00পুরো সময়কাল:5:25

ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট

এলিস আর বব একটি অদ্ভুত উপায় আবিষ্কার করেছে। তারা তারকে জোরে বা আস্তে টেনে দিয়ে ০ বা ১ বার্তা আদান প্রদান করত। কিন্তু মাঝে মাঝে এতো জোরে বাতাস বইত যে, কখনো কখনো বার্তা আদান-প্রদানের সময় ভুল বার্তা চলে যেত। এই ধরনের ভুলকে আমরা বলি "এরর"। কিন্তু এলিস আর বব এমন একটি পদ্ধতি বের করেছে যা বাইরে সমস্যা বা নয়েজ থাকা স্বত্তেও "এরর"-বিহীন বার্তা আদান-প্রদান করতে পারবে। এই কাজটা তারা কীভাবে করেছে? ১৯৪০ সালের দিকে, রিচার্ড হ্যামিং ঠিক এমনই এক সমস্যায় পড়েন তখন তিনি বেল ল্যাবে কর্মরত ছিলেন। বেল টেলিফোন ল্যাবটেরিতে, আমরা মাত্র ১০% পরীক্ষা নিরীক্ষা করতাম কম্পিউটারে আর বাকি ৯০% করতাম ল্যাবটেরিতে। কিন্তু আশা ছিল সময় আসবে, যখন আমরা ৯০% কাজ করব কম্পিউটারে আর বাকি ১০% কাজ হবে ল্যাবরেটরিতে। কারণ খরচ বলি, গতি বলি বা শ্রমের কথাই ধরি, ল্যাবরেটরির থেকে কম্পিউটার সব দিক থেকেই সাশ্রয়ী। তখন কম্পিউটার সাধারণত পাঞ্চ কার্ডে তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত, যেখানে ছিদ্রের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির ভিত্তিতে ১ বা ০ বোঝানো হত। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটা শুরু থেকেই ঝামেলার ছিল কারণ কার্ড নস্ট হতে পারত বা কার্ড ভুলভাবে পাঞ্চ করা হত। দেখা গেল, যেখানে ছিদ্র থাকার কথা সেখানে ছিদ্র নেই বা যেখানে ছিদ্র করা হয়েছে তা যথাযথভাবে করা হয়নি। এইসব ভুলভ্রান্তির কারণে পুরো পদ্ধতিটি অচল হয়ে যায়, যতক্ষণ না ভুলটা খুঁজে ঠিক করা হয়, ততক্ষণ সমস্যা হতেই থাকে। তাই হ্যামিং ঠিক করলেন যে, তিনি এমন একটি পদ্ধতি বের করবেন যেটি নিজেই এসব ভুল নির্ণয় করে সেটা শুধরে নিতে পারে এবং তাতে মূল বার্তাটি কোন সমস্যা ছাড়াই পৌঁছাতে পারে। তিনি "পুনরাবৃত্তি" ধারণার ভিত্তিতে এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছিলেন। অর্থাৎ বার্তা আদান-প্রদানে বাধাগ্রস্ত হবে এমন অংশ পরিবর্তন কিংবা বার বার বার্তাটি পাঠানো। তার এই ভুল সংশোধনের ধারনাটি প্যারিটি বিট কোডের মত সহজ ধারণার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল। প্যারিটি বিট হল একটি একক বিট যেটা একটি বার্তার একদম শেষে যোগ করে দেওয়া হয় এবং এই বিট মূলত নির্দেশ করে ১ এর সংখ্যাটি জোড় না বিজোড় সংখ্যক বার আছে। ফলে বার্তা প্রেরণের পর যদি কোন এরর হয়, তাহলে প্যারিটি বিটের সাথে প্রাপ্ত বার্তাটি মেলে না, ফলে প্রাপক সেটা তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারেন। কিন্তু হ্যামিংকে আরো "এরর" চিহ্নিত করা, এর অবস্থান নির্ণয় এবং তা সংশোধনের জন্য বার্তার শেষে প্যারিটি বিট যোগ করতে হয়। এর মাধ্যমেই তিনি সাত-চার কোড আবিস্কার করেন যা দিয়ে ৪-ডাটা বিটের প্রত্যেক ব্লকে তিনটা করে প্যারিটি বিট যোগ করা যেত। প্রথমে আমরা শুরু করব তিন প্যারিটি বিট দিয়ে, যেটাকে আমরা একটা বৃত্ত দিয়ে বোঝাতে পারি। এই বৃত্তগুলো পরস্পরকে ছেদ করায় চারটি অঞ্চল পাওয়া যায়। ৪-ডাটা বিট এই অঞ্চলগুলোতে নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে স্থাপন করা হত। প্যারিটি বিটকে হিসেব করার জন্য, প্রত্যেকটি বৃত্তকে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, প্রত্যেকটিতে ৩-ডাটা বিট আছে। এখন আগের মতই প্যারিটি বিট নির্ণয় করা যাবে। সবগুলো ডাটা বিট যোগ করে শূন্য বা ২ পেলে সেখানে প্যারিটি বিট শূন্য হয়, অর্থাৎ এটি জোড় আর যদি ১ বা ৩ থাকলে সেটি হবে বিজোড়। এভাবে যদি সব বৃত্তের ক্ষেত্রেই এই কাজটা করলে সবশেষে ৩টি প্যারিটি বিট পাওয়া যা ৪-ডাটা বিটের সাথে সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারপর এগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট ধারায় সাজানো হয়। নিচে সেটা দেখানো হল- খেয়াল করে দেখা যাবে, এই পদ্ধতি সহজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে "এরর" সংশোধন করে নিতে পারে। যদি একটি একক "এরর" ঘটে, তাহলে ২ বা তার বেশি ভুল প্যারিটি বিট থাকবে, আর যেখানে তারা পরস্পরকে ছেদ করে, সেটাই হল এররের অবস্থান। এই ডাটা বিট তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয় ফলে তখন সবগুলো প্যারিটি বিট শুদ্ধ হয়ে যায়। এটা হল এলিস এবং ববের উদ্ভাবিত উপায়। এই অতিরিক্ত প্যারিটি বিট রিডান্ড্যান্ট বিট নামে পরিচিত, কারণ তাদের কাছে নতুন কোন তথ্য থাকে না। সব "এরর" সংশোধন কোড এভাবেই কাজ করে। এরা করে কি- বার্তার উৎসের আকার একটু বাড়িয়ে দেয়, ফলে যেসব "এরর" থাকে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধিত হয়। এই "এরর" সংশোধন কোড তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়, যেমন- একটা সিডিতে, একটি বিশেষ কোড ব্যবহার করে তথ্য সংকেতে রূপান্তর করা হয়। ফলে আঁচড় বা ধূলার কারণে যেসব "এরর" হয়, বিশেষ কোড ব্যবহার করলে এরর-গুলো কোনভাবেই উপরিভাগে সংরক্ষিত মূল ০ এবং ১ এর ধারাকে ব্যাহত করতে পারে না। একারণেই কোন একটি সিডিতে আঁচড় পড়লেও সেটা ঠিকভাবে চলে। ক্লড শ্যানন এই ধারণাটাই ব্যবহার করে যোগাযোগ মাধ্যমের ধারণক্ষমতাকে পুনঃসজ্ঞায়িত করেন। কারণ যখনই সমস্যা বেড়ে যাবে, তখন ঠিকভাবে যোগাযোগ করার জন্য রিডানড্যান্সির পরিমাণও বাড়াতে হয়। এতে একটি ব্যাপার হয় তাহল, আগে যে পরিমান তথ্য পাঠানো যেত, সেটার পরিমাণ কমে যাবে।