বর্তমান সময়:0:00পুরো সময়কাল:5:02
0 শক্তি পয়েন্ট
ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট
## আগামী ও গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় অনূদিত ## আমার নাম জেনি মার্টিন। এবং আমি সিম্যানটেকে সাইবার নিরাপত্তার পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছি। বর্তমান সমাজের জন্য সাইবার অপরাধ বিশাল সমস্যার কারণ। ব্যক্তিগতভাবে, আর্থিকভাবে এবং এমনকি জাতীয় নিরাপত্তায় বিষয়ে এটি একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। গত কয়েক বছরে, লক্ষাধিক ক্রেডিট কার্ডের গোপন সংখ্যা চুরি হয়েছে। কোটি কোটি সামাজিক নিরাপত্তার গোপন সংখ্যা স্বাস্থ্যসেবা রেকর্ড ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এমনকি পারমাণবিক কেন্দ্রের তথ্য হ্যাক করা হয়েছে এবং মানবহীন আকাশচারী ড্রোন ছিনতাই হয়েছে। এইসব কিছুই সম্ভব হয়েছে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে। অথবা সফটওয়্যার ব্যবহারের সময় কারো অনিচ্ছাকৃত সিদ্ধান্তের কারনেও ঘটে। যারা এই সাইবার অপরাধের সাথে যুক্ত তাদের কারোরই কোন নির্দিষ্ট প্রোফাইল বা কোনরূপ পরিচয় পাওয়া যায় না। এটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে একজন কিশোর, যে কেউই হতে পারে আজকে, যেকোন বড় দেশেরই নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনী ছাড়াও কার্যকর সাইবার সশস্ত্র বাহিনীও রয়েছে। এমনকি, পরবর্তী বিশ্বযুদ্ধ প্রথাগত অস্ত্রের পরিবর্তে কম্পিউটারের মাধ্যমে জাতীয় পানি সরবরাহ, জ্বালানী গ্রিড এবং পরিবহন ব্যবস্থা অকার্যকর করার মাধ্যমে। আমি হচ্ছি পারিসা এবং আমি গুগোলের নিরপত্তার মধ্যমণি। আমি, আমাদের সফটওয়্যারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুগোলের বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বিভিন্ন উপায়ে কাজ করি। এখন আমরা দেখব কিভাবে গোপনে সাইবার অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। আমরা সফটওয়্যার ভাইরাস, সেবার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান এবং ফিশিং স্ক্যাম সম্পর্কে জানব। জীববিদ্যায় ভাইরাস হলো অনুজীব যা কাশি, হাঁচি অথবা শারীরিক কোন সংস্পর্শের দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাস কোষকে সংক্রমিত করে তাদের জীনগত উপাদানকে অনুপ্রবেশ করিয়ে সেই কোষকে প্রতিলিপি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কয়াজ করে। এগুলো মানুষ আসলেই অসুস্থ করে তুলে এবং তারপর অন্য মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কম্পিউটারের ভাইরাস একইভাবে কাজ করে। ভাইরাস এমন এক সক্রিয় প্রোগ্রাম যা অনিচ্ছাকৃতভাবেই চালু হয়ে যায়। এইসকল ভাইরাস নিজে নিজেই এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখন, কিভাবে একটি ভাইরাস প্রথম তোমার কম্পিউটারে আসে? অনেক উপায়েই আক্রমণকারী কারো কম্পিউটার আক্রান্ত করতে পারে। তারা হয়ত তোমাকে কোন ধোঁকা দিয়ে কোন একটি প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে প্রলুব্ধ করল। সুতরাং, বলা যায় অনেক ভাইরাসই ছদ্ম পরিচয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপডেট হিসাবে থাকে। আবার এটাও সম্ভব যে তোমার কম্পিউটারে সফটওয়্যারের কোন দুর্বলতা আছে। তাই, একজন আক্রমণকারী স্পষ্ট কোন অনুমতি ছাড়াই নিজেই ইনস্টল করতে পারে। একবার কম্পিউটারে একটি ভাইরাস চালু হয়ে গেলে সেটা তোমার কোন ফাইল মুছে দিতে পারে বা অন্যান্য প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রণ করে অথবা এমনকি অন্য কেউ অনুমতি ছাড়াই দূর থেকে তোমার কমপিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কম্পিউটার ভাইরাস ব্যবহার করে হ্যাকাররা বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এবং তারপর একটি ডিজিটাল সেনা হিসাবে সেগুলো ব্যবহার করতে পারে যা বটনেট হিসেবে পরিচিত। এটি ওয়েবসাইটে আক্রমণ করে সেগুলোকে অকার্যকর করে দিতে পারে। এই ধরনের আক্রমণকে বলা হয় বিস্তৃত সেবার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান। সেবার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান বিষয়টি তখনই হয় যখন হ্যাকার একটি ওয়েবসাইটে একই সময় অত্যধিক অনুরোধ পাঠায়। আমরা তখনই এটিকে সেবার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান বলি যখন অনেক কম্পিউটার থেকে একই সময়ে বিস্তৃত পরিসরে অনেক অনুরোধ আসে। বেশিরভাগ ওয়েবসাইটকেই দিনে লক্ষাধিক অনুরোধে সাড়া প্রদানের মত করে প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু যদি তুমি এগুলোকে একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গা থেকে লক্ষ লক্ষ অনুরোধ করে আঘাত কর তখন কম্পিউটার এই অতিরিক্ত অনুরোধের আবেদনে সাড়া দিতে পারে না। সাইবার অপরাধের আরেকটি পদ্ধতি হল অসংখ্য স্প্যাম মেইল প্রেরণ করা যা মানুষজনকে ধোঁকা দিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে। এটাকেই ফিশিং স্ক্যাম বলা হয়। ফিশিং স্ক্যাম হল যখন কোন বিশ্বস্ত ইমেইল তোমার একাউন্টে প্রবেশের অনুমতি চায় এবং তুমি প্রবেশ করার সাথে সাথেই এটা জাল ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। তখন প্রবেশের সাথে সাথে তোমার পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের কাছে চলে যাবে। হ্যাকাররা তখন তোমার প্রবেশ করার তথ্যসমূহ ব্যবহার করে তোমার আসল একাউন্টে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ এমনকি অর্থ চুরিও করতে পারে। সৌভাগ্যবশত, অনেক কোম্পানি, আইন এবং সরকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট নিরাপদ করার জন্য কাজ করছে। কিন্তু এই প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। তোমার মনে হতে পারে একটি কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক হওয়াটা সেই কম্পিউটারের নিরাপত্তা নকশা বা সফটওয়্যারের ত্রুটি। নিরাপত্তা বাগ নয় বরং একটি সিস্টেম ৯০ শতাংশ সময়ই হ্যাক হয় মানুষের কিছু সাধারণ ভুলের কারণে। অর্থাৎ এখানে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আমাদেরই কিছু করণীয় আছে। প্রায়ই আমাদের কাজ শুধু আমাদের নিরাপত্তাই না বরং আমাদের বিদ্যালয়, কাজের ক্ষেত্র এবং বাসা-বাড়ির নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে। সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়তই আরো বেশি দক্ষ হয়ে উঠছে এবং লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি ডলারের স্বার্থে আমাদের সকলকেই এজন্য সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ## আগামী ও গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় অনূদিত ##