বর্তমান সময়:0:00পুরো সময়কাল:6:40
0 শক্তি পয়েন্ট
ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট
## আগামী ও গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় অনূদিত ## আমি মিয়া গিলেপনার আমি ইউসি বারকেলেতে কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে পড়ছি এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরে কাজ করি যেখানে আমার কাজ হল তথ্যাবলী নিরাপদে রাখা। ইন্টারনেট হল উন্মুক্ত এবং প্রকাশ্য একটি পদ্ধতি। আমরা সবাই তার এবং অন্যান্য সংযোগের মাধ্যমে তথ্য প্রেরণ এবং গ্রহণ করি। যদিও এটা উন্মুক্ত একটি ক্ষেত্র তারপরও আমরা অনেক ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ক্রেডিট কার্ড নাম্বার ব্যাংকের তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং ইমেলের তথ্য আদান প্রদান করি। এগুলো তাহলে কিভাবে গোপনে থাকে? যেকোন তথ্যই গোপন রাখা যায় সাংকেতিকরণ, এলোমেলো কিংবা মূল বার্তাকে পরিবর্তন করার মাধ্যমে। সাংকেতিক বার্তাকে উদ্ধারের মাধ্যমে বার্তাকে সাজিয়ে তা আবারও পাঠোপযোগী করা সম্ভব। এটা খুবই সাধারণ একটি ধারণা এবং মানুষ এটি শত শত বছর ধরে করে আসছে। সাংকেতিকরণের প্রথম এবং অন্যতম পদ্ধতি হল সিজার সাইফার যা রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সিজারের নামে নামকরণ করা হয়। তিনি বার্তাকে শত্রুর কাছ থেকে গোপন রাখতে সাংকেতিকরণরূপে প্রেরণ করত। সিজার সাইফার এমন একটি এলগরিদম যা মূলবার্তার প্রতিটি বর্ণকে ভিন্ন বর্ণ দিয়ে স্থানান্তর করা হয়। এখানে এই বর্ণটি একটি সংখ্যার ব্যবধানে নেয়া হয়। সেই সংখ্যাটি শুধু প্রেরক এবং প্রাপকই জানবে। এটা কে বার্তার "কি" বলা হয়। এটা পাঠককে গোপন বার্তাটি পড়তে সাহায্য করে। যেমন, মূলবার্তায় আছে , "হ্যালো", একে সিজার সাইফার এলগরিদমের সাহায্যে মূল "কি" ৫ ধরে বার্তাটি সাংকেতিকরণ করলে এমন হবে- বার্তা উদ্ধার করতে হলে আবার আগের অবস্থানে যেতে হবে কিন্তু সিজার সাইফারের বড় একটি সমস্যা আছে। যে কেউই এর গোপনীয়তা ভাঙ্গতে পারে বিভিন্ন সংখ্যা পরিবর্তন করে। ইংরেজি বর্ণে মাত্র ২৬টি বর্ন আছে। তারমানে, এক্ষেত্রে একজন পাঠোদ্ধার করতে "কি"-এর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ২৬ নিবে। এখন ২৬ টি সম্ভাব্য "কি" দিয়ে চেষ্টা করা কঠিন কোন কাজ নয়। পুরো কাজটা করতে এক ঘন্টা হয়ত লাগবে। তাই এটাকে আরো কঠিন করতে হবে। প্রতিটি বর্ণকে একটি সংখ্যা দিয়ে পরিবর্তন না করে প্রত্যেকটি বর্ণকে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা দিয়ে পরিবর্তন করে দেখি। এই উদাহরণ হিসেবে, একটি বড় বার্তাকে সাংকেতিকরণ করতে ১০ সংখ্যার "কি" দিয়ে দেখা যায় প্রতিটি বর্ণের জন্য কতগুলো সম্ভাব্য অবস্থান পাওয়া যায়। এই "কি" অনুমান করা কঠিন হবে। ১০ সংখ্যার সাংকেতিকরণে ১০ লক্ষ্যেরও অধিক সম্ভাব্য "কি" পাওয়া যাবে। অবশ্যই এটা যেকোন মানুষের জন্য অনেক কঠিন হবে। এই দশ লক্ষ সম্ভাব্য "কি" যাচাই করে দেখতে মানুষের কয়েক শতাব্দি লেগে যেতে পারে কিন্তু একটি কম্পিউটারের জন্য এটা কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার মাত্র। সুতরাং, এই আধুনিক সময়ে যেখানে দুষ্কৃতিকারীরা এটি সমাধান করতে পেন্সিল নয় বরং কম্পিউটার নিয়ে বসবে সেখানে এই বার্তা উদ্ধার করা কোন ব্যাপারই না। এখন, আরো কঠিন করা মানে হল কম্পিউটারকে আরো অনেক সম্ভাব্য "কি" যাচাই করতে দেয়া। এখনকার নিরাপদ যোগাযোগের জন্য সাংকেতিকরণে ২৫৬ বিটের "কি" দেয়া হয়। অর্থাৎ, কোন দুষ্কৃতিকারী যখন তোমার বার্তা পড়তে যাবে তখন সেই বার্তার মূল "কি" নির্ণয় এবং বার্তার অর্থ উদ্ধার করতে তাদের অনেক অনেক বেশি সম্ভাব্য "কি" যাচাই করতে হবে। এমনকি যদি হাজারখানেক সুপার কম্পিউটার একসাথে প্রতি সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ "কি" যাচাই করে, তাতেও প্রতিটি "কি" যাচাই করে প্রত্যেকটি বার্তার অর্থ উদ্ধার করতে কোটি কোটি বছর সময় লেগে যাবে ২৫৬ বিটের সাংকেতিকরণের অর্থ উদ্ধার করার ক্ষেত্রে। অবশ্যই এখন কম্পিউটারের চিপগুলোতে বছরে প্রতিনিয়তই কাজের গতি বৃদ্ধি করে নতুনভাবে তৈরি হয়। এই গতি সূচকীয় হারে বৃদ্ধি পেলেও এখনকার অসম্ভব সমস্যাগুলো সমাধান হতে কয়েকশ বছর লেগে যাবে। আর তখন এই ২৫৬ বিট আর নিরাপদ থাকবে না। এমনকি এখনই আমরা এই আদর্শ "কি" এর দৈর্ঘ্য কম্পিউটারের কর্মক্ষমতার সাথে সাথে বৃদ্ধি করেছি। আশার কথা হচ্ছে দীর্ঘ "কি" ব্যবহার করে সাংকেতিকরণের চেয়ে সূচকীয় হারে অনুমানের সংখ্যা বৃদ্ধি করলেই সাইফার ভাঙ্গা বেশি কঠিন হবে। যখন একজন প্রেরক এবং প্রাপক একই "কি" ব্যবহার করে এলোমেলো বার্তার অর্থ উদ্ধার করে তখন সেটিকে প্রতিসম সাংকেতিকরণ করা বলা হয়।। প্রতিসম সাংকেতিকরণের "কি"-এর ক্ষেত্রে, যেমন সিজার সাইফারের গোপন "কি" একই সময়ে প্রেরক এবং প্রাপককে গোপনে জানতে হবে। এটা যে কারো জন্যই চমৎকার কিন্তু যেখানে ইন্টারনেট উন্মুক্ত এবং প্রকাশ্যে ব্যবহার করা হয় সেখানে গোপনে এই নিরাপত্তা "কি" দুটো কম্পিউটারে প্রদান করা প্রায় অসম্ভব। যদি না, কম্পিউটার অপ্রতিসম "কি" ব্যবহার করে যেখানে একটি "কি" প্রকাশিত থাকবে যা যেকেউ ব্যবহার করতে পারবে এবং একটি ব্যক্তিগত "কি" যা সবার কাছে থাকবে না। প্রকাশ্য "কি" দিয়ে তথ্য সাংকেতিকরণ করা হয় যা দিয়ে যে কেউই গোপন বার্তা তৈরি করতে পারবে কিন্তু এর উদ্ধার করা শুধু মাত্র তাকে দিয়ে সম্ভব হবে যার কাছে উদ্ধারের গোপন "কি" থাকবে। এটা গাণিতিক ভাবে হয়ে থাকে যা এখনই আমরা হয়ত বুঝতে পারব না। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে তোমার একটি ব্যক্তিগত চিঠির বাক্স আছে যেখানে যে কেউই চিঠি রেখে যেতে পারবে কিন্তু এর জন্য একটি চাবি লাগবে এবং তুমি এর কয়েকটি প্রতিলিপি তৈরি করে তোমার বন্ধুদের দিলে বা প্রকাশ্যে রাখলে। যে কেউই এই চাবি ব্যবহার করে চিঠির বাক্সে চিঠি রেখে যেতে পারবে। কিন্তু, কেবল তুমিই তোমার ব্যক্তিগত চাবি দিয়ে বাক্স খুলে তোমার গোপন চিঠিগুলো সংগ্রহ করতে পারবে। একই ভাবে তুমিও তোমার বন্ধুদের চিঠির বাক্সে এভাবে চিঠি পাঠাতে পার। আর এভাবেই সকলেই গোপনে বার্তা আদান-প্রদান করতে পারবে কোনরূপ প্রকাশ্য "কি" ছাড়াই। ইন্টারনেটে প্রকাশ্য "কি" রচনা করাই হল সকল নিরাপদ বার্তার মূল ভিত্তি। সেই সাথে এসএসএল এবং টিএলএস যেগুলো ব্রাউজিং এর সময় ওয়েবকে রক্ষা করে। এখনকার কম্পিউটার এগুলো ব্যবহার করে। যেকোন সময়ই হয়তো তোমার ব্রাউজারের ঠিকানা লিখার স্থানে এই তালা চিহ্নটি বা এই এইচটিটিপিএস লেখাটি দেখে থাকবে যা দিয়ে বুঝা যায় তোমার কম্পিউটার তথ্যকে নিরাপদ রাখতে "প্রকাশ্য সাংকেতিকরণ কি" ব্যবহার করছে। যেহেতু অনেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাই এখানে অনেক ব্যক্তিগত তথ্যের আদান প্রদান ঘটে। আর এই তথ্যগুলো নিরাপদ রাখা আরো বেশি প্রয়োজন। যেহেতু প্রতিনিয়তই কম্পিউটারের উত্তরোত্তর উন্নতি হচ্ছে, তাই প্রতিনিয়তই সাংকেতিকরণকে দুর্বোধ্য করতে আরো বেশি কঠিন করতে হবে। আমি এই কাজ গুলোই করি। আর প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হয়। ## আগামী ও গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় অনূদিত ##