বর্তমান সময়:0:00পুরো সময়কাল:6:45
0 শক্তি পয়েন্ট
ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট
## আগামী ও গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় অনূদিত ## আমার নাম পাওলা। এবং আমি মাইক্রোসফটের একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী। কিভাবে ইন্টারনেট কাজ করে সে সম্পর্কে কথা বলা যাক। আমার পেশা হল যোগাযোগের জন্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় আছে কিনা তা খেয়াল রাখা। কোন কিন্তু .১৯৭০ সালের দিকে, এর জন্য নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি ছিল না। ভেন্ট সার্ফ এবং বব কাঁ-এর কাজের সাহায্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ইন্টারনেট ওয়ার্কিং প্রোটোকল উদ্ভাবিত হয়। এই উদ্ভাবনই ভিত্তি হিসেবে কাজ করে যাকে আমরা এখন বলি ইন্টারনেট। ইন্টারনেট হল নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক। এটা এই বিশ্বের লক্ষাধিক যন্ত্রকে একত্রে সংযুক্ত করে রেখেছে। হতে পারে, তুমি একটি ল্যাপটপ বা মুঠোফোন দিয়ে সংযুক্ত আছ। কিন্তু তারপর যে ওয়াইফাই সংযোগ আছে যা একটি ইন্টারনেটের সংযোগ স্থাপনের সার্ভিস প্রোভাইডার বা আইএসপির সাথে যুক্ত। আর এই আইএসপি বিশ্বের লক্ষ কোটি যন্ত্রের সাথে যুক্ত যেগুলো আবার হাজার হাজার নেটওয়ার্কের সাথে আন্তঃসম্পর্কযুক্ত। একটা বিষয় যা অনেকেই স্বীকার করে না তা হল ইন্টারনেট নকশাপূর্ণ দর্শন ও একটি স্থাপত্য প্রোটোকলের একটি সেটের মাধ্যমে প্রকাশিত। প্রোটোকল হল একটি সুপরিচিত নিয়ম এবং আদর্শ যা সকলের সম্মতিতে ব্যবহৃত হয় এবং যা ব্যবহারকারীকে কোন সমস্যা ছাড়াই ব্যবহারে অনুমতি দিবে। ইন্টারনেটের কাজ করার পদ্ধতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল এই নকশাপূর্ণ দর্শন যোগাযোগে নতুন সব প্রযুক্তিকে গ্রহণ এবং ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। কারন, একটি নতুন প্রযুক্তির জন্য কিছু ফ্যাশনে ইন্টারনেট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোন প্রোটোকল কাজ করে তা জানা প্রয়োজন। ইন্টারনেটের বিভিন্ন যন্ত্রের জন্য অনন্য ঠিকানা আছে। ইন্টারনেট ঠিকানা হল একটি সংখ্যা যা অনেকটা ফোন নম্বর বা রাস্তার ঠিকানা মত যা প্রতিটি যন্ত্রের জন্য অনন্য নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে রয়েছে। ব্যপারটা এমন যে অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে যেমন ঠিকানা আছে, ঠিক তেমন। কাউকে চিঠি পাঠাতে হলে সেই ব্যক্তিকে না জানলেও চলে কিন্তু তার ঠিকানা জানা প্রয়োজন এবং কিভাবে সঠিকভাবে ঠিকানা লিখতে হয় তা জানতে হয় যেন চিঠিটি যথাযথ প্রাপকের কাছে পৌঁছে যায়। কম্পিউটারের জন্য ঠিকানার পদ্ধতিটি ইন্টারনেটে অনেকটা একইরকম এবং এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রোটোকলের অংশ নিয়ে গঠিত যা ইন্টারনেটের যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়। একে ইন্টারনেট প্রোটোকল বা আইপি বলা হয়। কম্পিউটারের ঠিকানাকেই তার আইপি ঠিকানা বলা হয়। কোন ওয়েবসাইট পরিদর্শন করার মাধ্যমে একটি কম্পিউটার অন্য একটি কম্পিউটারকে তথ্য জিজ্ঞাসা করে। একটি কম্পিউটার অপর একটি কম্পিউটারের আইপি ঠিকানায় বার্তা পাঠায় সেই সাথে এটি তার নিজের ঠিকানাও দেয়। তাই অন্য কম্পিউটারও জানে কোথায় তাকে প্রতিক্রিয়া পাঠাতে হবে। তুমি হয়ত একটি আইপি ঠিকানা দেখে থাকবে। এটা শুধু এক গুচ্ছ সংখ্যা। এই সংখ্যাগুলো একটি নির্দিষ্ট অনুক্রমে সাজানো। ঠিক যেমন, একটি বাড়ির ঠিকানায় যেমন তার শহর, রাস্তা বাড়ির নম্বর এবং দেশের নামের উল্লেখ থাকে ঠিক তেমনি একটি আইপি ঠিকানার অনেক অংশ রয়েছে। শুধু সব ডিজিটাল তথ্যের মত, এই সংখ্যার প্রতিটিই একটি নির্দিষ্ট বিটকে নির্দেশ করে। সাধারণ আইপি ঠিকানা ৩২ বিট দীর্ঘ হয়, যার প্রতিটি জন্য আট বিটযুক্ত ঠিকানার অংশ। শুরুর সংখ্যা সাধারণত দেশ এবং আঞ্চলিক নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করে। এরপর আসে সাবনেটওয়ার্ক। এবং তারপর, পরিশেষে, নির্দিষ্ট যন্ত্রের ঠিকানা। আইপির এই সংস্করণকে বলা হয় আইপিভিফোর। এটা ১৯৭৩ সালে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, এবং ৮০'র দশকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয় যা ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত চল্লিশ লক্ষেরও বেশি যন্ত্রে ঠিকানা প্রদান করে। কিন্তু ভিন্ট সার্ফ যেমনটা চিন্তা করেছিলেন ইন্টারনেট তার চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হয়ে গেছে। এবং চল্লিশ লক্ষেরও অধিক অনন্য ঠিকানাগুলোও যথেষ্ঠ নয়। আমরা এখন বহু বছরের দীর্ঘ আইপি ঠিকানার রূপান্তরের মধ্যে আছি, যা আইপিভিসিক্স নামে পরিচিত। এখানে প্রতি ঠিকানায় ১২৮ বিট ব্যবহার করা হয় এবং ৩৪০ আনডেসিলিওনের বেশি অনন্য ঠিকানা রয়েছে। এটা পৃথিবীর প্রতিটি বালুকণাকে একটি আইপি ঠিকানা প্রদান করার মতই যথেষ্ঠ। অধিকাংশ ব্যবহারকারীরাই এই ঠিকানা কখনো দেখতে পায় না বা খেয়ালই করে না। একটি পদ্ধতি হল ডোমেন নেইম সিস্টেম বা ডিএনএস, যা www.example.com এর মত নামগুলোকে তার যথাযথ ঠিকানার সাথে যুক্ত করতে সাহায্য করে। তোমার কম্পিউটার ডিএনএস ব্যবহার করে ডোমেন নাম সন্ধান করে এবং আইপি ঠিকানা যুক্ত করে তোমার কম্পিউটারের সাথে ইন্টারনেটের গন্তব্যস্থলের সংযোগ স্থাপন করতে । এটা অনেকটা এমন। এই যে, এখানে। আমি www.code.org যেতে চাই। ঠিক আছে। কিন্তু, আমি তো ডোমেইনের আইপি ঠিকানা জানি না। আচ্ছা, চারপাশে জিজ্ঞেস করে দেখি। আচ্ছা, কেউ কি বলতে পারে কিভাবে code.org এ যেতে হয়? - হ্যাঁ, আমি এটা ঠিক এখানে পেয়েছিলাম। এটা ১৭৪ ডট ১২৯ ডট ১৪ ডট ১২০ এ আছে। - ওহ, ঠিক আছে, অনেক ধন্যবাদ। হ্যাঁ, আমি এটা নিচে লিখে দিচ্ছি এবং পরেরবারের জন্য তা সংরক্ষণ করে রাখতে হবে, যদি আবার এটার প্রয়োজন হয়। এই যে, এই ঠিকানাটিই তুমি চেয়েছিলে। অসাধারণ। ধন্যবাদ। - তাহলে কিভাবে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইটের মধ্য থেকে আমরা কোন একটি যন্ত্রের সিস্টেমের নকশা করব? একটি ডিএনএস সার্ভারের পক্ষে অন্যসকল যন্ত্রের অনুরোধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। বিষয়টা হল ডিএনএস সার্ভার একটি বিস্তৃত অনুক্রমে সংযুক্ত থাকে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত থাকে যা বিভিন্ন প্রধান ডোমেইন যেমন .org, .com, .net ইত্যাদির জন্য বিভক্ত থাকে। ডিএনএস মূলত হতে তৈরি করা হয়েছিল সরকার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য যা একটি উন্মুক্ত ও প্রকাশ্য যোগাযোগ প্রোটোকল প্রদান করে। এই উন্মুক্ততার কারনেই ডিএনএস বারবার সাইবার আক্রমণের শিকার হয়। আক্রমণের উদাহরণ হল ডিএনএস স্পুফিং। যখন একজন হ্যাকার একটি ডিএনএস সার্ভারে প্রবেশ করে এবং ডোমেন নামের সাথে মিলিয়ে ভুল আইপি ঠিকানা দিয়ে এটি পরিবর্তন করে। এটি আক্রমণকারীকে একটি নকল ওয়েবপেইজ থেকে তথ্য পাঠাতে থাকে। এটা যদি তোমার সাথে হয়, তোমাকে এটা অনেক সমস্যায় ফেলবে। কেননা তুমি আসল ভেবে একটি জাল ওয়েবসাইট ব্যবহার করছ। ইন্টারনেট বিশাল একটি ক্ষেত্র যা প্রতিনিয়ত আরো বিস্তৃত হচ্ছে। কিন্তু ডোমেন নেইম সিস্টেম এবং ইন্টারনেট প্রোটোকলের নকশাই করা হয়েছে এর ক্ষেত্র যত বড়ই হোক তবুও এর সীমা নির্ধারনের জন্য। ## আগামী ও গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় অনূদিত ##