বর্তমান সময়:0:00পুরো সময়কাল:6:26
0 শক্তি পয়েন্ট
ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট
## আগামী ও গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় অনূদিত ## সাত, ছয়, পাঁচ, চার, তিন, দুই, এক.... আমার নাম লিন রুট। আমি একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী। এখানে স্পোটিফাই এ কাজ করি। আর আমাকে প্রথমে এটা স্বীকার করতেই হবে যে আমি অনেকাংশেই ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। ইন্টারনেটে তথ্যের পরিমাণ বিস্ময়কর হারে বেড়ে চলছে। কিন্তু কিভাবে এটা সম্ভব যে প্রত্যেকটি তথ্য তোমার হাতে নির্ভরতায় তুলে দিচ্ছে? তুমি যদি স্পোটিফাই থেকে একটি গান শুনতে চাও। তখন তোমার কম্পিউটার সরাসরি স্পোটিফাই এর সার্ভারে সংযোগ স্থাপন করবে এবং নিবেদিত সংযোগের মাধ্যমে একটি গান পাঠাবে।কিন্তু এভাবেই ইন্টারনেট কাজ করে না। ইন্টারনেটের যদি সরাসরি, নিবেদিত সংযোগ থাকে তখন হাজার হাজার মানুষের জন্য সেভাবে কাজ করা সম্ভব হবে না যেহেতু প্রত্যেকটি কম্পিউটার এবং প্রত্যেকটি সংযোগই একই সাথে কাজ করছে। তাছাড়াও, তথ্য ইন্টারনেট সরাসরি চলাচল করে না। অনেক, অনেক বছর আগে ১৯৭০ সালে, আমার সঙ্গী বব কাঁ এবং আমি এমন কিছুর একটি নকশা নিয়ে কাজ শুরু করি যা এখন ইন্টারনেট নামে পরিচিত। বব এবং আমার দায়িত্ব ছিল এবং সুযোগ হয়েছিল ইন্টারনেটের প্রোটোকল এবং তার কাঠামো তৈরি করা। সুতরাং, আমরা অব্যাহত ইন্টারনেটের প্রবৃদ্ধির কাজে এবং এই বর্তমান সময় পর্যন্ত এর বিবর্তন ও এর উন্নতির কাজে নিয়োজিত ছিলাম। একটি কম্পিউটার থেকে তথ্য যেভাবে স্থানান্তরিত হয় সে বিষয়টি বেশ আকর্ষণীয়। এজন্য একে একটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করার প্রয়োজন হয় না। এমনকি তোমার কম্পিউটারের পথ এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারের সাথে সংযোগকালীন সময়েও পরিবর্তিত হতে পারে। ইন্টারনেটে তথ্য এক কম্পিউটার থেকে যায় যেটাকে আমরা এক গুচ্ছ তথ্য বলি। এবং একটি গুচ্ছ তথ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভ্রমণ করে। ব্যপারটা অনেকটা এমন যে তুমি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে গাড়ি ব্যবহার কর এবং মাঝে মাঝে যানজটে আটকা পরে হয়তো তোমাকে অন্য পথে আসতে হয়। আর যেহেতু তুমি, গাড়ির মধ্যে যেকোনো প্রকারের জিনিসই পরিবহন করতে পার তেমনি বিভিন্ন প্রকারের তথ্য আইপি ঠিকানার মাধ্যমে প্রেরণ করা যায় কিন্তু সেখানেও কিছু সীমা আছে। কেমন হবে যদি তোমাকে বলা হয় একটি মহাকাশযানকে তার তৈরি করার স্থান থেকে যেখানে তা নামবে সেখানে সরিয়ে নিতে হবে? এটিকে একটি ট্রাকে মাপমত বহন করা সম্ভব হবে না তাই এটি টুকরো টুকরো খন্ডে বিভক্ত করে কয়েকটি ট্রাকে করে নিয়ে আসতে হবে। তখন একেকটি ট্রাক বিভিন্ন সময়ে একেক পথে যেতে পারে, কিন্তু একবার সব টুকরা চলে আসলে তুমি পুনরায় সেগুলো একত্রিত করে সম্পূর্ণ মহাকাশ যানটি প্রস্তুত করতে পারবে। ইন্টারনেটও এভাবেই কাজ করে। তুমি যদি তোমার কোন বন্ধুকে খুব বড় একটি ছবি পাঠাতে চাও অথবা কোন ওয়েবসাইটে আপলোড করতে চাও সেটি হয়ত লক্ষ লক্ষ শুন্য এবং এক-এর বিট হবে যা প্রেরণ করা অনেক কঠিন একটি ব্যপার হয়ে দাঁড়াবে। যেহেতু এটি কম্পিউটারের তথ্য, কম্পিউটারের পাঠানো ছবিটি দ্রুত ভেঙ্গে পড়তে পারে অসংখ্য ছোট অংশে যেগুলোকে বলা হয় তথ্যের গুচ্ছ। গাড়ি বা ট্রাকের মত এগুলোতে চালক থাকে না । আর তাই কোন পথে যাবে সেটার ইচ্ছেমত হয় না। প্রত্যেকটি তথ্য গুচ্ছেরই যেখানে থেকে এসেছে এবং যেখানে যাচ্ছে তার একটি ইন্টারনেট ঠিকানা থাকে। ইন্টারনেটের বিশেষ কম্পিউটার এই বিষয়গুলো রাউটারের নেটওয়ার্ক নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনায় সঠিক স্থানে পৌঁছে দেয়। একটি পথে ঝামেলা হলে তখন ইন্টারনেটের অন্য পথে তথ্য পাঠানো যায়। তখন হয়ত তথ্য আসতে কিছুটা দেরি হবে অথবা ঠিকভাবে সাজানো থাকবে না। সুতরাং, এটি কিভাবে কাজ করে তা জানা যাক। ইন্টারনেট প্রোটোকলের অংশ হিসেবে প্রত্যেক রাউটার তথ্য প্রেরণের জন্য অনেক পথের সন্ধান রাখে। তার মধ্যে এটি তথ্য গুচ্ছের আইপি ঠিকানা অনুযায়ী সবচেয়ে সহজ সুলভ পথটিই বেছে নেয়। "সুলভ" এই জন্য যে এটি খরচের ব্যপার না বরং কম সময় এবং অপ্রযুক্তিগত বিষয় যেমন রাজনীতি কোম্পানির মধ্যকার সম্পর্ককে বুঝায়। মাঝে মাঝে তথ্য প্রেরণের ক্ষেত্রে সরাসরি পথের প্রয়োজন হয় না।একটি তথ্য আদান-প্রদানের জন্য অনেকগুলো পথ থাকলে নেটওয়ার্কের জন্যই তা ভাল হয়। তার মানে কোন একটি পথে সমস্যা থাকলেও তথ্য গুচ্ছ সঠিকভাবে পৌঁছে যাবে। আর এটাই ইন্টারনেটের নির্ভরতার মূল কথা। এখন, তুমি কিছু তথ্য চাইলে কিন্তু সব পেলে না তখন কী হবে? মনেকর, তুমি একটি গান শুনতে চাও। তো, তুমি কিভাবে শতভাগ নিশ্চিত হবে যে গানটি সঠিকভাবে তোমার কাছে চলে আসবে? এক্ষেত্রে নতুন ভাবে পরিচয় করিয়ে দেই টিসিপির সাথে। ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রোটোকল। টিসিপি তোমার সকল তথ্য আদান-প্রদান এবং তথ্যগুলোকে গুচ্ছাকারে প্রেরণ করা পরিচালনা করে। তুমি যখন তোমার যন্ত্রে একটি গান শুনতে চাইবে স্পোটিফাই সেই গানে তথ্যগুলোকে গুচ্ছাকারে প্রেরণ করবে। যখন তোমার কাছে এটি পৌঁছে যায় তখন টিসিপি এর পুরো তালিকা করে প্রত্যেক তথ্যের প্রাপ্তি স্বীকার পাঠায়। পুরো তথ্য চলে আসলে তখন টিসিপি তা গ্রহণের নিশ্চয়তার চিহ্ন দেয় এবং তোমার কাজ শেষ হয়ে যায়। টিসিপি যদি কিছু তথ্য খুঁজে না পায় তখন এটি প্রাপ্তি স্বীকার করে না। না হলে দেখা যেত তুমি সম্পূর্ন গানটি পেতে না। প্রতিটি অনুপস্থিত অথবা অসম্পূর্ণ তথ্যের জন্য স্পোটিফাই আবারও তথ্য পাঠাবে। একবার টিসিপি যদি একটি গানের তথ্য যাচাই করে সম্পূর্ন তথ্যের প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় তখনই তোমার গানটি ঠিকভাবে চলবে। টিসিপি এবংরাউটারের সবচেয়ে সুবিধাটি হল এগুলোর আকার পরিবর্তন যোগ্য। এগুলো আটটি কিংবা ৮০০০,০০০,০০০ যন্ত্রের সাথে কাজ করতে পারে। এই নীতির জন্যই ভুলের সহনশীলতা এবং প্রাচুর্যতার জন্য আমরা যত রাউটার যোগ করব ইন্টারনেট ততবেশি নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে। এছাড়াও আমরা কারো কার্যক্রমে কোনরূপ বাধা সৃষ্টি না করেই ইন্টারনেটকে বিস্তৃত এবং পরিবর্তনীয় করতে পারি। ইন্টারনেটে হাজার হাজার শত শত নেটওয়ার্ক এবং লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার ও যন্ত্র শারীরিকভাবে সংযুক্ত। এগুলো এমনসব ব্যবস্থা যা ইন্টারনেটকে সংযোগ স্থাপন এবং একসাথে কাজ করে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেটে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে তথ্য আদান-প্রদান হয়। ইন্টারনেটে রাউটার বা কম্পিউটারের যন্ত্রসমূহ সকল তথ্যেরগুচ্ছকে তাদের যথাযথ স্থানে এবং প্রয়োজনে সঠিক ক্রমে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। সারাদিনে এগুলো লক্ষ লক্ষ বার হয়ে থাকে, যেমন তুমি অথবা অন্য কেউ ইমেইল করছে ওয়েবপেইজ দেখছে অথবা মুঠোফোনে ভিডিওর মাধ্যমে কথা বলছে অন্যকোন যন্ত্রের সাহায্যে ইন্টারনেটে কথা বলছ। ## আগামী ও গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় অনূদিত ##