বর্তমান সময়:0:00পুরো সময়কাল:6:41
0 শক্তি পয়েন্ট
ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট
## আগামী ও গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় অনূদিত ## (আশাবাদী গান) - আমার নাম টেস উইনলক। আমি গুগোলের সফটওয়্যার প্রকৌশলী। এখানে একটি প্রশ্ন আছে। কিভাবে একটি ছবি, বার্তা বা ই-মেইল করে এক ডিভাইস থেকে অন্য পাঠানো যায়? এটা কোন যাদু নয়। এটা ইন্টারনেট, একটি হচ্ছে বাস্তব, ভৌতগত পদ্ধতি যার মাধ্যমে তথ্যের স্থানান্তর করা হয়। ইন্টারনেট অনেকটাই ডাক সেবা মত, কিন্তু ডাকের মাধ্যমে বস্তুগত কোন কিছু পাঠানো থেকে এটি সামান্য ভিন্ন। বাক্স এবং খামের পরিবর্তে, ইন্টারনেট বাইনারি তথ্য বহন করে। তথ্যগুলো বিটের সমন্বয়ে তৈরি। বিটের বিষয়টিকে বলা যেতে পারে এক গুচ্ছ হ্যাঁ অথবা না, কিংবা বিদ্যুৎ প্রবাহ চালু বা বন্ধ। আমরা সাধারণত একটি সক্রিয় সংযোগ বোঝাতে এক (ওয়ান) এবং নিষ্ক্রিয় সংযোগ বোঝাতে শূন্য (জিরো) ব্যবহার করি। একটি বিট দুই সম্ভাব্য অবস্থা আছে, আমরা একে বাইনারি কোড বলি। আটটি বিট একসাথে মিলে হয় এক বাইট। এক হাজার বাইট একসাথে মিলে হয় এক কিলোবাইট। এক হাজার কিলোবাইটে হয় এক মেগাবাইট। একটি গানে সাধারণত এনকোড করা হয় তিন চার মেগাবাইট। এটা ছবি, ভিডিও, অথবা একটি গানের জন্য কোন ব্যাপারই না। ইন্টারনেটে সবকিছু প্রকাশ এবং পাঠানো হয় বিট হিসাবে। এগুলো তথ্যের সার কণিকার মত কিন্তু এটি এমন না যে আমরা বস্তুগতভাবে শূন্য এবং এক -কে একস্থান থেকে অন্যস্থানে কিংবা একজন থেকে অন্যজনের কাছে প্রেরণ করছি। সুতরাং, তার এবং বায়ু-তরঙ্গের মাধ্যমে কোন বস্তুগত বিষয়াদি প্রেরণ করা হয়? আচ্ছা, একটি ছোট্ট উদাহরণ দেখি কিভাবে মানুষে ভৌতগত যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্যের একটি একক বিট একস্থান থেকে অন্যস্থানে পাঠাতে পারে। এই যেমন আমরা যদি একটি বাতি সক্রিয় করাকে "এক" এবং নিষ্ক্রিয় করাকে "শূন্য" দিয়ে প্রকাশ করি অথবা মর্সকোডের মত কোন কিছু করি। এই পদ্ধতিতে কাজ হবে কিন্তু তা আসলে অনেক ধীর, বাতাসে বাধাগ্রস্থ হবে এবং সম্পূর্ণই মানুষের উপর নির্ভরশীল হবে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রয়োজন একটি মেশিন। ইতিহাস জুড়ে, আমরা এমনসব পদ্ধতি তৈরী করেছি যা মূলত এই বাইনারি তথ্য বিভিন্ন বস্তুগত মাধ্যমে পাঠাতে পারে। এখন আমরা শারীরিকভাবে বিদ্যুৎ, আলো, এবং রেডিও তরঙ্গ দ্বারা বিট পাঠাই। বিদ্যুতের মাধ্যমে একটি বিট প্রেরণ করার জন্য, কল্পনা করি যে দুটি আলোক বাতি আছে যা একটি তামার তার দ্বারা সংযুক্ত। যখন একটি যন্ত্রে বিদ্যুৎ সংযোগ সক্রিয় করা হয় বাতিটি জ্বলে উঠে। বিদ্যুৎ নেই, তো আলোো নেই। যদি দুজন চালকই বাতির সক্রিয়তাকে এক এবং নিষ্ক্রিয়তাকে শূন্য ধরে নেয় তখন আমরা একস্থান থেকে অন্যস্থানে তথ্যের বিট পাঠানোর একটি পদ্ধতি পাব।. এক্ষেত্রে ছোট একটি সমস্যা হবে। যদি এক সারিতে শূন্য পাঁচবার পাঠাতে হয় তখন , এটা কিভাবে করা সম্ভব হবে। কিভাবে এই নিষ্ক্রিয়তাকে শূন্য় হিসেবে গোনা যাবে? আচ্ছা, হতে পারে একটি ঘড়ি বা একটি টাইমার চালু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে চালকেরা একমত হতে পারে যে প্রেরক প্রতি সেকেন্ডে এক বিট পাঠাবে এবং প্রাপক প্রতি সেকেন্ডে কত হয় সেটা সংরক্ষণ করবে। একটি সারিতে পাঁচটি শূন্য পাঠাতে, নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পাঁচটি সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হবে। অন্য প্রান্তে ব্যক্তি তা লিখবে। পাঁচটি সেকেন্ডে একসারিতে পরপর পাঁচটি এক। এটি সক্রিয় করা হল। পাঁচ সেকেন্ডের প্রতি সেকেন্ডের তথ্যই লিখে রাখতে হবে। একথাও ঠিক যে, আমরা প্রতি সেকেন্ডে এক বিটের চেয়ে আরও দ্রুত পাঠাতে চাই ,তাই আমাদের যন্ত্রের সর্বোচ্চ প্রেরণ ক্ষমতার সাথে সাথে ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধি প্রয়োজন। ব্যান্ডউইথ বিটের হার দ্বারা পরিমাপ করা হয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ে আমরা যে বিট সংখ্যা পাঠানো যায়। এটি সাধারণত সেকেন্ডে মাপা হয়। গতিকে ভিন্নভাবেও পরিমাপ করা হয় যাকে প্রচ্ছন্নতা বা লেটেন্সি বলা হয়। এটি হল উৎস যন্ত্র থেকে একটি একক বিটের একস্থান থেকে অন্যস্থানে ভ্রমনের সময়। আমাদের মানুষের জন্য, প্রতি সেকেন্ডে এক বিট প্রেরণ বেশ দ্রুতই ছিলনা বরং অনেক কঠীন একটি বিষয় ছিল। মনে করি আমরা চাই তিন সেকেন্ডে তিন মেগাবাইটের একটি গান ডাউনলোড করতে হবে। প্রতি মেগাবাইতে ৮,000,0000 বিট। যার অর্থ বিটের হার হল প্রতি সেকেন্ডে ৮,000,000 বিট। অবশ্যই এটা মানুষের পক্ষে সম্ভব না প্রতি সেকেন্ডে ৮,000,000 বিট প্রেরণ করা। কিন্তু একটি মেশিন তা সুন্দর ভাবেই করতে পারে। কিন্তু এখানে প্রশ্ন আছে এই বার্তাগুলি প্রেরণ এবং কতদূর সংকেত যেতে পারবে সেটি সম্পন্ন করতে প্রেরণের তার কেমন হবে। ইথারনেট তার যেটি আমাদের বাসা-বাড়ি, অফিস, বিদ্যালয়ে ব্যবহার করা হয় সেটিতে কয়েকশ ফুট দূরত্বের মধ্যেই সংকেত প্রেরণে ব্যঘাত ঘটে বা সংকেতের ঘাটতি দেখা যায়। ইন্টারনেটকে সারা পৃথিবী জুড়ে বিশাল দূরত্বে সংযুক্ত করার জন্য একটি বিকল্প পদ্ধতিতে বিট পাঠানোর প্রয়োজন। আমরা মহাসাগরের কথা বলছি। তো আমরা আর কি কি করতে পারি? আচ্ছা, আমাদের জানা মতে কোনটি শুধু তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চেয়েও দ্রুত অনেক দূরত্ব অতিক্রম করবে? আলো। আমরা বিটকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে আলোক রশ্মি হিসেবে ফাইবারের মাধ্যমে পাঠাতে পারি। ফাইবার অপটিক তার, কাঁচের একটি সুতার মত। এখানে আলো প্রতিফলনের কৌশল ব্যবহৃত হয়। যখন একটি আলোক রশ্মি তারের মাধ্যমে পাঠানো হয় সেটি তারে উপর নিচে প্রতিফলিত হয়ে দৈর্ঘ্য বরাবর যেতে থাকে যতক্ষন না এটি অন্য প্রান্তে গৃহীত হয়। প্রতিফলনের কোণের উপর নির্ভর করে ধারাবাহিকভাবে একাধিক বিট প্রেরণ করা যায়। এক্ষেত্রে, এটি আলোর গতিতে চলে। তাই ফাইবার, আসলেই অনেক দ্রুত কিন্তু তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল দীর্ঘ দূরত্বেও বাধা প্রাপ্ত হয় না। এভাবেই শত শত মাইল চলতে পারে সংকেতের কোনরূপ ক্ষতি ছাড়াই। এ কারণেই ফাইবার অপটিক তারের ব্যবহার করা হয়। সমুদ্র তলদেশ জুড়ে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে সংযোগ স্থাপন করে। ২০০৮ সালে একটি মিশরের আলেক্সান্দ্রিয়ার কাছাকাছি একটি তারে কাটা পরে যা মধ্যপ্রাচ্য এবং ভারতে ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করে। সুতরাং আমরা এই ইন্টারনেট দিতে প্রস্তুত কিন্তু এটা সত্যিই খুব দুর্বল কাঠামোগত কৌশল। ফাইবারের বিষয়টি খুবই চমৎকার কিন্তু এটি অনেক ব্যয়বহুল এবং এটি নিয়ে কাজ করা কঠিন। সকল ক্ষেত্রেই আমরা কাজ করতে তামার তার পাই। কিন্তু কিভাবে আমরা তার ছাড়া কিভাবে কাজ করব? কীভাবে আমরা কিছু তারবিহীন পদ্ধতিতে পাঠাবো? তারবিহীন ভাবে বিট পাঠানোর যন্ত্র সাধারণত বেতার সংকেত ব্যবহার করে এক জায়গা থেকে অন্যত্র বিট পাঠায়। যন্ত্রটিকে এক্ষেত্রে শূন্য এবং এক-কে বেতার তরঙ্গের কম্পাংকে পরিণত করে। প্রাপক যন্ত্রে এই প্রক্রিয়াটি বিপরীত উপায়ে আমাদের কম্পিউটারে বাইনারিতে রূপান্তর করে। তাই, বেতারের সাহায্যে আমাদের ইন্টারনেট আরো বেশি হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। কিন্তু এই বেতার সংকেতকে অনেক দূর পর্যন্ত পাঠানো যায় না। এজন্যই দেখা যাবে লস এঞ্জেলেসে যা পাওয়া যায় তা শিকাগো রেডিও স্টেশনে তা পাওয়া যায় না। এই বেতার এখনও নির্ভরশীল তারযুক্ত ইন্টারনেটের উপর। একটি কফির দোকানের ওয়াইফাই ব্যবহার করলে সেটি দ্রুত বিটকে রাউটারের মাধ্যমে টারের মাধ্যমে তারে সংকেত প্রেরণ করে। পরে এটি ইন্টারনেটের দীর্ঘ ভ্রমণ যুক্ত হয়। ভবিষ্যতে, বিট পাঠানোর ভৌত পদ্ধতির পরিবর্তন করে কৃত্রিম উপগ্রহে লেজার রশ্মি প্রেরণের মাধ্যমে বা ড্রোন অথবা বেলুনের মাধ্যমে বেতার তরঙ্গ প্রেরণ করা যেতে পারে। কিন্তু ভিতরের বাইনারি তথ্য উপস্থাপনা এবং তথ্য পাঠানোর এবং গ্রহণের প্রোটোকল মোটামুটি একই থাকবে। ইন্টারনেটে সবকিছুই, সে শব্দ হোক বা ইমেল, ছবি, বিড়াল বা কুকুরছানার ভিডিও, সকল কিছুতেই আছে শুন্য এবং এক-এর সমাহার যা বৈদ্যুতিক স্পন্দন, আলোক রশ্মি এবং বেতার তরঙ্গ বিদ্যমান। সেই সাথে অনেক অনেক ভালোবাসা। ## আগামী ও গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় অনূদিত ##